কলকাতা— মৃত্যুদণ্ডের রায় মাথায় ঝুলছে। দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার হওয়ার আশঙ্কা, এমনকি প্রাণহানির ঝুঁকিও রয়েছে। তবু সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ফিরে আদালতের কাছে আত্মসমর্পণ করার ঘোষণা করলেন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক ঘণ্টার এক্সক্লুসিভ টেলিফোন সাক্ষাৎকারে তিনি নিজেই এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলন ও গণবিক্ষোভের মুখে ক্ষমতা ছাড়ার পর ভারতে আশ্রয় নিয়েছিলেন শেখ হাসিনা। দেশ ছাড়ার পর এই প্রথম তিনি দেশে ফেরার নির্দিষ্ট সময়সীমা জানালেন। তাঁর দাবি, শুধু তিনিই নন, নির্বাসনে থাকা আওয়ামি লিগের একাধিক শীর্ষ নেতাও তাঁর সঙ্গে বাংলাদেশে ফিরে আইনের মুখোমুখি হবেন।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওরা আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে, এমনকি মেরেও ফেলতে পারে। তবু আমাকে ফিরতেই হবে। আমার দলের নেতা-কর্মীদের উপর ভয়াবহ অত্যাচার চলছে। মৃত্যু যদি আসেই, তবে আমি চাই সেটি আমার নিজের মাটিতেই আসুক। সেখানেই আমার বাবা-মায়ের কবর রয়েছে।’
তিনি আরও জানান, কারাবাসকে তিনি ভয় পান না। ২০০৭ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলেও তাঁকে জেলে যেতে হয়েছিল। পরে ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি আবার ক্ষমতায় ফিরেছিলেন।
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২০২৫ সালের নভেম্বরে শেখ হাসিনাকে অনুপস্থিত অবস্থাতেই মৃত্যুদণ্ড দেয়। সেই বিচারকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং ‘প্রহসন’ বলে দাবি করেছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আদালতে আত্মসমর্পণ করেই আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে এই মামলার প্রকৃত সত্য দেশের মানুষের সামনে তুলে ধরবেন।
শেখ হাসিনা জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গে প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালও দেশে ফিরতে পারেন। তাঁর বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডের রায় রয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতের কাছে একাধিকবার আবেদন জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে শেখ হাসিনার স্পষ্ট বক্তব্য, ‘আমাকে ফেরত পাঠানোর প্রয়োজন নেই। আমি নিজেই বাংলাদেশে ফিরে যাব।’
বর্তমানে ভারতে অবস্থান করলেও বাংলাদেশের রাজনীতির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি। তাঁর কথায়, অনলাইনের মাধ্যমে বিভিন্ন সংসদীয় আসনের নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছেন এবং আওয়ামি লিগকে পুনর্গঠনের কাজও চলছে।
ভারতের বিদেশ মন্ত্রক অবশ্য জানিয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ সংক্রান্ত আবেদন আইন ও বিচারিক প্রক্রিয়া মেনেই বিবেচনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ঢাকার বর্তমান সরকারের সঙ্গে গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বজায় রাখার দিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ডিসেম্বরে দেশে ফেরার শেখ হাসিনার এই ঘোষণাকে ঘিরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন করে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, এই সিদ্ধান্ত আওয়ামি লিগের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
