বারুইপুর— বারুইপুরের সূর্যপুরে গণপিটুনি এবং পুলিশের উপর হামলার ঘটনায় তদন্ত আরও জোরদার করল পুলিশ। এই ঘটনায় আরও পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর ফলে এখনও পর্যন্ত মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৩৫। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে ধরতে একাধিক জায়গায় তল্লাশি চলছে। তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সূর্যপুরে ১২ বছরের এক নাবালিকার দেহ পুকুর থেকে উদ্ধারের পর এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সেই সময় এক যুবককে সন্দেহের বশে গণপিটুনি দিয়ে হত্যা করা হয়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, গণপিটুনিতে নিহত যুবক নির্দোষ ছিলেন। তিনি দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোরতম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
নাবালিকার দেহ উদ্ধারের পর ক্ষুব্ধ জনতা রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। অভিযোগ, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ পৌঁছলে তাদের উপরেও হামলা চালানো হয়। এই ঘটনায় গণপিটুনি এবং পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তদন্তের শুরুতেই ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। পরে আরও ১২ জন ধরা পড়েন। বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত মোট ৩০ জন গ্রেপ্তার ছিলেন। রাতে আরও পাঁচ জনকে গ্রেপ্তার করায় ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩৫-এ পৌঁছেছে। ধৃতদের পুলিশি হেফাজতে রেখে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য অভিযুক্তদেরও চিহ্নিত করার কাজ চলছে।
গণপিটুনিতে নিহত যুবকের পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় তিনি নিজের বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিলেন। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে ঘর থেকে টেনে বের করে বেধড়ক মারধর করা হয়। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে পরিবার।
অন্যদিকে, নাবালিকা খুনের মামলার তদন্তও চলছে। গত শনিবার থেকে নিখোঁজ থাকার পর রবিবার সকালে পুকুর থেকে ওই নাবালিকার দেহ উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, গণধর্ষণের পর তাকে খুন করা হয়েছে। এই মামলায় এখনও পর্যন্ত মূল অভিযুক্ত-সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
তদন্ত চলাকালীন মূল অভিযুক্ত প্রভাস মণ্ডল পুলিশের এনকাউন্টারে নিহত হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। পুলিশের দাবি, ঘটনার পুনর্নির্মাণের জন্য তাকে সূর্যপুরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেই সময় সে পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে পালানোর চেষ্টা করে এবং গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে পুলিশের পাল্টা গুলিতে তার মৃত্যু হয়। এই এনকাউন্টারের ঘটনায় বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
