34.1 C
Kolkata
July 8, 2026
টিভি-ও-সিনেমা

‘সতলুজ’ সরানো নিয়ে ক্ষোভ, দিলজিৎ দোসাঞ্জের ছবি জনতার কাছে পৌঁছে দিতে উদ্যোগী দিল্লি শিখ গুরুদ্বারা কমিটি

দিলজিৎ দোসাঞ্জ অভিনীত ‘সতলুজ’ (Satluj) ছবিকে ওটিটি প্ল্যাটফর্ম জি৫ (ZEE5) থেকে সরিয়ে দেওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে দিল্লি শিখ গুরুদ্বারা ম্যানেজমেন্ট কমিটি (DSGMC)। কমিটির দাবি, সমাজকর্মী জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবন ও মানবাধিকার রক্ষার লড়াইকে মানুষের সামনে আসতে না দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাই ছবিটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রকাশ্যে প্রদর্শনী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিশেষ সেমিনারের আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

‘ইতিহাস চাপা দেওয়া যায় না’— ডিএসজিএমসি

ঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে ডিএসজিএমসি-র সভাপতি হরমীত সিং কালকা বলেন, ছবিটি কেবল একটি বায়োপিক নয়, বরং পাঞ্জাবের এক অন্ধকার সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাস তুলে ধরেছে।

তাঁর দাবি, জসওয়ন্ত সিং খালরা প্রায় ২৫ হাজার অজ্ঞাত পরিচয়ের দেহ গোপনে দাহ করার অভিযোগের তথ্য সামনে আনেন এবং বিষয়টি দেশ-বিদেশে তুলে ধরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্নে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন।

কালকার কথায়, “এই ইতিহাস মানুষের সামনে আসতে না দেওয়া অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। শিখ সমাজের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।”

প্রকাশ্যে দেখানো হবে ‘সতলুজ’

ছবিটি ওটিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হলেও সেটিকে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে ডিএসজিএমসি।কমিটির তরফে জানানো হয়েছে—

  • বিভিন্ন এলাকায় পাবলিক স্ক্রিনিং আয়োজন করা হবে।
  • ডিএসজিএমসি-র অধীনস্থ স্কুল ও কলেজে জসওয়ন্ত সিং খালরার জীবন ও কর্ম নিয়ে সেমিনার হবে।
  • গুরুদ্বারা কমিটির সদস্যদের ছবিটি ডাউনলোড করে স্থানীয় স্তরে প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
  • খুব শীঘ্রই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করে এই কর্মসূচির রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে।

কালকার মতে, একজন সমাজকর্মী কীভাবে সমাজে বড় পরিবর্তন আনতে পারেন, সেই বার্তাই নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

কে ছিলেন জসওয়ন্ত সিং খালরা?

‘সতলুজ’ ছবিতে জসওয়ন্ত সিং খালরার চরিত্রে অভিনয় করেছেন দিলজিৎ দোসাঞ্জ। বাস্তবে তিনি ছিলেন এক ব্যাংককর্মী, যিনি পরে মানবাধিকার আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন।

১৯৮০-র শেষ থেকে ১৯৯০-এর দশকের শুরুতে পাঞ্জাবে জঙ্গি দমন অভিযানের সময় বহু মানুষকে বেআইনিভাবে হত্যা করে গোপনে দাহ করার অভিযোগ সামনে আনেন খালরা।

১৯৯৫ সালে তিনি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন। পরে পাঞ্জাব পুলিশের চার সদস্য তাঁর অপহরণ, নির্যাতন ও হত্যার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হলেও আজ পর্যন্ত তাঁর দেহ উদ্ধার হয়নি।

কেন বিতর্কে ছবি?

ছবিটির প্রথম নাম ছিল ‘পাঞ্জাব ৯৫’ (Punjab 95)। মুক্তির আগে প্রায় চার বছর ধরে এটি সেন্সর বোর্ডের সঙ্গে জটিলতার মধ্যে ছিল। অভিযোগ, সেন্ট্রাল বোর্ড অব ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) ছবিতে ১২০টি কাট চেয়েছিল।

গত শুক্রবার নতুন নাম ‘সতলুজ’ নিয়ে ছবিটি জি৫-এ মুক্তি পায়। তবে মাত্র দু’দিনের মধ্যেই ভারত থেকে ছবিটি সরিয়ে নেওয়া হয়। জি৫ কর্তৃপক্ষ ‘কিছু নতুন পরিস্থিতি’র কথা উল্লেখ করলেও বিস্তারিত কারণ জানায়নি।

বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তথ্যপ্রযুক্তি (আইটি) বিধির কিছু ধারার সম্ভাব্য লঙ্ঘনের অভিযোগেই ছবিটি সরানো হয়েছে। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

Related posts

Leave a Comment