July 7, 2026
Featured

মন্মথপুর প্রণব মন্দিরে শ্রদ্ধার্ঘ্যে স্মরণ ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীকে

ইউনিফর্ম বিতরণ থেকে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সমাজসেবার বার্তা

মন্মথপুর: ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর (Shyama Prasad Mukherjee) ১২৫তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে মন্মথপুর প্রণব মন্দিরে (Manmathpur Pranab Mandir) অনুষ্ঠিত হল বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। শ্রদ্ধাঞ্জলি, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং একাধিক সমাজকল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে দিনটি পালন করেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। অনুষ্ঠানে এলাকার বিশিষ্টজন, শিক্ষক-শিক্ষিকা, ছাত্রছাত্রী ও বহু সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় সকালে ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাল্যদানের মাধ্যমে। পরে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা তাঁর দেশপ্রেম, শিক্ষাক্ষেত্রে অবদান, জাতীয় সংহতি রক্ষায় ভূমিকা এবং জনজীবনে তাঁর আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, বর্তমান সময়েও ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর আদর্শ তরুণ প্রজন্মের কাছে সমানভাবে প্রাসঙ্গিক।

আলোচনা সভায় তাঁকে যুগাবতার আচার্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের ভাবশিষ্য হিসেবেও স্মরণ করা হয়। বক্তারা বলেন, দেশের প্রতি নিষ্ঠা, সততা এবং সমাজসেবার যে আদর্শ তিনি রেখে গিয়েছেন, তা আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

অনুষ্ঠানে মন্মথপুর প্রণবানন্দ বিদ্যামন্দিরের শিক্ষক-শিক্ষিকা ও ছাত্রছাত্রীদের যৌথ পরিবেশনায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। তাঁদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকলের প্রশংসা কুড়িয়ে নেয়।

জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে সমাজকল্যাণমূলক একাধিক উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়। মন্দিরের পক্ষ থেকে ৩০০ জন দুঃস্থ ও অসহায় শিশুর হাতে স্কুল ইউনিফর্ম তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি ১২৫ জন মহিলাকে লাল পাড় শাড়ি প্রদান করা হয়। পরিবেশ সংরক্ষণের বার্তা দিতে স্বামী প্রণবানন্দ শান্তি কানন পার্কে ১২৫টি ফলের চারা রোপণ করা হয়। এছাড়াও ১২৫ জন যুবকের হাতে একটি করে ফলের চারা এবং একটি করে সাদা গেঞ্জি তুলে দেন উদ্যোক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, ডা. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর রাজনৈতিক দর্শনের পাশাপাশি তাঁর মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি সম্পর্কেও নতুন প্রজন্মকে সচেতন করা প্রয়োজন। একইসঙ্গে যুগাবতার আচার্য শ্রীমৎ স্বামী প্রণবানন্দজী মহারাজের জীবন ও কর্ম সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের আরও বিস্তারিতভাবে জানাতে তা পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার দাবিও জানানো হয়।

অনুষ্ঠানকে ঘিরে মন্মথপুর ও সংলগ্ন এলাকায় উৎসবের আবহ তৈরি হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। আয়োজকদের দাবি, আগামী দিনেও শিক্ষা, পরিবেশ রক্ষা ও সমাজকল্যাণমূলক বিভিন্ন উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

Related posts

Leave a Comment