July 7, 2026
কলকাতা

অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে হাতির মাথার নকশা নিয়ে মামলা

আইনি নোটিসের জবাবে ৩০ দিনের সময় চাইলেন কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর

বাড়িতে হাতির মাথার নকশার ব্যবহার নিয়ে মামলা। এবার আইনি লড়াইয়ের নতুন মোড়। কলকাতা পুরসভার কাউন্সিলর অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে একটি আইনি নোটিসের জবাব পাঠানো হয়েছে। ওই জবাবে জানানো হয়েছে, সংশ্লিষ্ট হাতির মাথাটি সরাতে অন্তত ৩০ দিন সময় প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিযোগ করা হয়েছে, প্রথম আইনি নোটিসে একাধিক অস্পষ্টতা ও তথ্যগত ত্রুটি রয়েছে।

৩ জুলাই তারিখে অ্যাডভোকেট প্রণব ভট্টাচার্যের মাধ্যমে পাঠানো এই জবাবি নোটিসে বলা হয়েছে, অভিযোগকারী পক্ষের আইনজীবীর পাঠানো নোটিসে এক ব্যক্তি দুর্জয় পালের নির্দেশে চিঠি পাঠানোর কথা উল্লেখ থাকলেও, তিনি কোন বরোর বাসিন্দা বা কোন প্রশাসনিক এলাকার প্রসঙ্গে অভিযোগ করছেন, তা স্পষ্ট করা হয়নি। ফলে অভিযোগের ভিত্তি নিয়েই প্রশ্ন তোলা হয়েছে।

জবাবি নোটিসে আরও দাবি করা হয়েছে, অভিযোগকারী নিজেকে হঠাৎ একটি স্থানীয় সংগঠনের সভাপতি হিসেবে দাবি করেছেন। সেই দাবি এবং আইনি নোটিসে উল্লেখিত বিভিন্ন তথ্যের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে বলেও কাউন্সিলরের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

নোটিসে অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিনি অভিযোগের বিষয়ে অযথা বিতর্কে যেতে চান না। তবে যে হাতির মাথাটি প্লাস্টিক বা ফাইবারের তৈরি বলে উল্লেখ করা হয়েছে, সেটি সরানোর জন্য অন্তত ৩০ দিনের সময় প্রয়োজন। সেই সময় দেওয়ার আবেদনও করা হয়েছে।

আইনি নোটিসে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, অনন্যা বন্দ্যোপাধ্যায় হিন্দু ব্রাহ্মণ পরিবারের সদস্য হওয়ায় ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণেই ওই হাতির মাথাটি নিজের বাড়িতে রেখেছিলেন। সেই কারণেও বিষয়টিকে ধর্মীয় অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত করে দেখার আবেদন জানানো হয়েছে।

কাউন্সিলরের আইনজীবী আরও জানিয়েছেন, যদি অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে ৩০ দিনের সময়সীমা মেনে নেওয়া হয়, তাহলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই হাতির মাথাটি সরানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। অন্যথায় নির্ধারিত সময়ের আগেই কোনও আইনি বা ফৌজদারি পদক্ষেপ করা হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জবাবি নোটিসে উল্লেখ রয়েছে।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও অভিযোগকারী পক্ষ এখনও পর্যন্ত এই জবাবি নোটিসের বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। ফলে আগামী দিনে এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment