June 23, 2026
খেলা

মায়ের গয়না বিক্রির টাকায় শুরু ক্রিকেট, আজ ভারতের জার্সিতে ক্রান্তি

নয়াদিল্লি— মেয়ের হাতে ক্রিকেট ব্যাট তুলে দিতে নিজের গয়না বিক্রি করেছিলেন মা। সেই ত্যাগের কথা আজও ভোলেননি ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দলের তরুণ পেসার Kranti Goud। পরিবারের সেই আত্মত্যাগকে সার্থক করতেই কঠোর পরিশ্রম করে চলেছেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নিজের সংগ্রামের কাহিনি তুলে ধরে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ২২ বছরের এই ক্রিকেটার।

মধ্যপ্রদেশের একটি ছোট গ্রাম থেকে উঠে আসা ক্রান্তি জানান, তাঁর ক্রিকেটার হওয়ার পথ মোটেই সহজ ছিল না। এমন এক পরিবেশে তিনি বড় হয়েছেন, যেখানে মেয়েদের স্বাধীনভাবে বাইরে বেরোনোর সুযোগও ছিল সীমিত। সমাজের নানা কটূক্তি এবং বাধা সত্ত্বেও তিনি নিজের লক্ষ্য থেকে সরে আসেননি।

ক্রান্তি বলেন, ‘আমি কখনও এত বড় স্বপ্ন দেখিনি। আমাদের গ্রামে মেয়েদের বাইরে বেরোনোও সহজ ছিল না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম, কঠোর পরিশ্রম করলে একদিন না একদিন সাফল্য আসবেই। তাই আমি শুধু অনুশীলন করে গিয়েছি, শিখে গিয়েছি এবং নিজের উপর বিশ্বাস রেখেছি।’

ভারতের হয়ে একদিন খেলবেন, সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তাঁর। দক্ষিণ আফ্রিকাকে নিয়ে আয়োজিত ত্রিদেশীয় একদিনের সিরিজে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয় তাঁর। পরে ইংল্যান্ড সফরে টি-২০ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও অভিষেক ঘটে। সেই সফরেই ৬ উইকেট নিয়ে নজর কাড়েন এই ডানহাতি পেসার।

নিজের সাফল্যের পিছনে পরিবারের ভূমিকার কথা বলতে গিয়ে ক্রান্তি বলেন, ‘পরিবার পাশে থাকলে বাইরের মানুষের কথা গুরুত্ব পায় না। আমার বাবা-মা সবসময় আমাকে সমর্থন করেছেন। কখনও মনে করাননি যে আমি কোনও ভুল কাজ করছি। তাঁদের সেই বিশ্বাসই আমাকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি দিয়েছে।’

সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্ত ছিল মায়ের ত্যাগের প্রসঙ্গ। ক্রান্তি জানান, আর্থিক সংকটের কারণে অনেক সময় খেলতে যাওয়াই কঠিন হয়ে পড়ত। তখন তাঁর মা নিজের গয়না বিক্রি করে মেয়ের জন্য ক্রিকেট কিট কিনে দিয়েছিলেন।

ভারতীয় পেসারের কথায়, ‘আমাদের আর্থিক অবস্থা খুব ভালো ছিল না। ম্যাচ খেলতে যেতে হতো, কিন্তু টাকার অভাব ছিল। তখন আমার মা নিজের গয়না বিক্রি করে আমাকে একটি ভালো ক্রিকেট কিট কিনে দিয়েছিলেন। এটা বিশাল ত্যাগ ছিল। পরিবারের সবাই আমার জন্য এত কিছু করছিলেন যে আমার মনে হতো, আমাকেও তাঁদের জন্য কিছু করতে হবে। আমি চেয়েছিলাম তাঁদের ত্যাগ যেন বিফলে না যায়।’

নিজের গ্রামের মেয়েদের মধ্যেও এখন ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে জানিয়েছেন ক্রান্তি। তাঁর সাফল্যের অনুপ্রেরণায় গ্রামের ঘুয়ারায় একটি ক্রিকেট অ্যাকাডেমিও গড়ে উঠেছে। সেখানে নিয়মিত অনুশীলন করছে বহু কিশোরী।

ক্রান্তি বলেন, ‘আগে অনেক মেয়েকেই বাড়ির বাইরে বেরোতে দেওয়া হতো না। এখন তাদের বাবা-মায়েরা মেয়েদের ক্রিকেট খেলতে উৎসাহ দিচ্ছেন। এটা আমার কাছে গর্বের বিষয়। আমি চাই ওরা নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করুক।’

একটি ছোট গ্রামের মেয়ের জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপানোর এই যাত্রা আজ বহু তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

Related posts

Leave a Comment