নয়াদিল্লি— ১৯৯৩ সালের বউবাজার বিস্ফোরণ মামলায় দোষী সাব্যস্ত মহম্মদ রশিদ খানের মুক্তির পথে আপাতত বড় বাধা তৈরি করল সুপ্রিম কোর্ট। দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশে তাঁর মুক্তির সিদ্ধান্তে স্থগিতাদেশ জারি করেছে দেশের শীর্ষ আদালত। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবেদনের ভিত্তিতেই এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র এবং বিচারপতি সঞ্জীব সচদেবের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির শুনানি করে দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ আপাতত কার্যকর না করার নির্দেশ দেয়। আদালত পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বিশেষ অনুমতি আবেদন গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট পক্ষকে নোটিসও জারি করেছে।
শুনানির সময় অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এস ভি রাজু আদালতে জানান, ১৯৯৩ সালের বউবাজার বিস্ফোরণ ছিল অত্যন্ত ভয়াবহ জঙ্গি হামলা। ওই বিস্ফোরণে প্রায় ৭০ জনের মৃত্যু হয়েছিল এবং শতাধিক মানুষ আহত হয়েছিলেন। বিস্ফোরণের জেরে দুটি বহুতল ভবনও ধসে পড়ে।
এর আগে ৫ জুন দিল্লি হাই কোর্ট রশিদ খানের মুক্তির পক্ষে রায় দিয়েছিল। আদালত জানিয়েছিল, তিন দশকেরও বেশি সময় কারাবাসের পর সংশোধনমূলক বিচারনীতির আলোকে তাঁর অকালমুক্তির সুযোগ পাওয়া উচিত। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছিল, দীর্ঘ ৩৩ বছরেরও বেশি সময় জেলে থাকার পর তাঁকে আর বন্দি করে রাখার বিশেষ যৌক্তিকতা নেই।
হাই কোর্ট আরও উল্লেখ করেছিল, কারাগারে রশিদ খানের আচরণ অত্যন্ত ভালো ছিল। একাধিকবার প্যারোলে মুক্তি পেলেও তিনি নির্ধারিত সময়ে জেলে ফিরে এসেছেন। বয়স এবং শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে ভবিষ্যতে অপরাধে জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও খুব কম বলে আদালত মনে করেছিল।
তবে পশ্চিমবঙ্গ সরকার শুরু থেকেই তাঁর মুক্তির বিরোধিতা করে আসছে। রাজ্যের দাবি, বউবাজার বিস্ফোরণের মূল চক্রী ছিলেন রশিদ খান। এই হামলার সামাজিক প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তরফেও তাঁর অকালমুক্তির বিরুদ্ধে আপত্তি জানানো হয়েছিল।
১৯৯৩ সালের মার্চ মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকেই কারাগারে রয়েছেন রশিদ খান। ভারতীয় দণ্ডবিধি, বিস্ফোরক পদার্থ আইন এবং সন্ত্রাস দমন আইনের একাধিক ধারায় তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছিল।
এখন সুপ্রিম কোর্টের স্থগিতাদেশের ফলে তাঁর মুক্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মামলার চূড়ান্ত শুনানির পরই রশিদ খানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
previous post
