কলকাতা — সই জালিয়াতি-কাণ্ডের তদন্তে মঙ্গলবার দুপুরে কালীঘাটে তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে পৌঁছে গেল সিআইডি-র একটি দল। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-র বাড়ি সংলগ্ন এই কার্যালয়ে তল্লাশি চালানোর উদ্দেশ্যেই গোয়েন্দারা সেখানে যান বলে জানা গিয়েছে। সিআইডি-র সঙ্গে উপস্থিত ছিল কালীঘাট থানা-র পুলিশ বাহিনীও।
তদন্তকারী সূত্রের খবর, সই-কাণ্ডের তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য সংগ্রহের লক্ষ্যেই এই অভিযান চালানো হয়। মঙ্গলবার দুপুরে একটি বড় দল নিয়ে কালীঘাটে পৌঁছন সিআইডি আধিকারিকরা। তাঁদের সঙ্গে মহিলা পুলিশও ছিল। তবে কার্যালয়ের সামনে পৌঁছনোর পরই পরিস্থিতি কিছুটা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
জানা গিয়েছে, প্রথমে কার্যালয়ের গেট বন্ধ থাকায় বাইরে অপেক্ষা করতে হয় তদন্তকারীদের। পরে বাইরে এসে সিআইডি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলেন তৃণমূলের প্রাক্তন সাংসদ তথা দলের কোষাধ্যক্ষ শুভাশিস চক্রবর্তী। সেখানেই শুরু হয় বাগ্বিতণ্ডা।
শুভাশিস চক্রবর্তীর দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বর্তমানে দিল্লিতে রয়েছেন। তাঁদের অনুপস্থিতিতে তিনি কার্যালয়ের দেখভালের দায়িত্বে থাকলেও তল্লাশির অনুমতি দেওয়ার ক্ষমতা তাঁর নেই। সেই কারণেই তিনি সিআইডি-কে ভিতরে প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন।
অন্যদিকে সিআইডি আধিকারিকরা জানান, তদন্তের স্বার্থে তাঁরা এসেছেন এবং তল্লাশি চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় নোটিসও তাঁদের কাছে রয়েছে। তদন্তকারী দল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে পাঠানো নোটিসও দেখায় বলে সূত্রের খবর। তবে শুভাশিস চক্রবর্তী নিজের অবস্থানে অনড় থাকেন এবং কার্যালয়ে প্রবেশের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেন।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে কালীঘাট এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সই-কাণ্ডের তদন্তে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছে তদন্তকারী মহল। যদিও শেষ পর্যন্ত সিআইডি কার্যালয়ের ভিতরে প্রবেশ করতে পেরেছে কি না, সে বিষয়ে সরকারি ভাবে এখনও কোনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে এই মামলায় আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সামনে আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
