মুম্বাই, ৭ জুন, ২০২৬ — মুম্বাইয়ের ওরলিতে একটি সঙ্গীতানুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে মৃত্যু হল ২৮ বছরের এক যুবকের। একই ঘটনায় অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তাঁর এক মহিলা বন্ধু। ঘটনাকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অতিরিক্ত মাদক সেবনের অভিযোগ উঠলেও পুলিশ এখনও সেই সম্ভাবনা নিয়ে নিশ্চিত মন্তব্য করতে নারাজ। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত যুবকের নাম বৃষভ গাঙ্গুর্দে। তিনি মাহিমের বাসিন্দা। শনিবার রাতে ওরলিতে আয়োজিত ‘ক্লাঙ্গকুয়েনস্টলার অল নাইট লং’ নামে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। অনুষ্ঠান চলাকালীন আচমকাই অসুস্থ হয়ে পড়েন বৃষভ এবং তাঁর এক মহিলা বন্ধু।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দু’জনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাসপাতালে পৌঁছনোর আগেই বৃষভের মৃত্যু হয়। চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্য দিকে, তরুণীকে যশলোক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশকে দেওয়া বয়ানে ওই তরুণী জানিয়েছেন, তিনি শুধুমাত্র মদ এবং এনার্জি ড্রিঙ্ক পান করেছিলেন। অন্য কোনও মাদক গ্রহণ করেননি বলে দাবি তাঁর।
তবে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন জল্পনার মধ্যে পুলিশ জানিয়েছে, এখনও পর্যন্ত মাদক সেবনের কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ মেলেনি। তাই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে না তারা।
ঘটনার পর অনুষ্ঠানস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপস্থিত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেও তথ্য সংগ্রহ করছেন তদন্তকারীরা। প্রাথমিক চিকিৎসা রিপোর্টে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে বৃষভের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ স্পষ্ট হবে।
এই ঘটনার জেরে অনুষ্ঠানের উদ্যোক্তাদের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জানা গিয়েছে, অনুষ্ঠানস্থলে চারটি মদের স্টল ছিল। সেগুলির অনুমোদন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম যথাযথভাবে মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে মুম্বাইয়ের গোরেগাঁওয়ে একটি অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত মাদক সেবনের অভিযোগে দুই এমবিএ পড়ুয়ার মৃত্যু হয়েছিল। সেই ঘটনার পর ওরলির এই অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। নিরাপত্তা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিয়ে পুলিশের আপত্তি থাকলেও পরে অনুমোদন দেওয়া হয় বলে সূত্রের খবর।
বর্তমানে এই ঘটনায় উদ্যোক্তা-সহ মোট আট জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তদন্তের অগ্রগতির দিকে নজর রয়েছে প্রশাসনের।
