কলকাতা, ৭ জুন, ২০২৬ — প্রায় পাঁচ বছর ধরে কলকাতার মেট্রোপলিটন এলাকার একটি ভবনকে অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এ বার সেই ভবন ফেরত পেতে আইনি পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাড়ির মালিক মনোতোষ সাহা, যিনি রাজনৈতিক মহলে ‘মন্টু’ নামেই পরিচিত। তাঁর অভিযোগ, চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার পরেও ভবন খালি করছে না তৃণমূল। সেই কারণেই সোমবার থানায় সাধারণ ডায়েরি বা জিডি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।
বাইপাস সংলগ্ন উত্তর পঞ্চান্ন গ্রামে তৃণমূলের পুরনো সদর কার্যালয় ভেঙে নতুন ভবন তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল। সেই সময় ২০২১ সালে মেট্রোপলিটনের মনোতোষ সাহার ভবনকে অস্থায়ী দলীয় কার্যালয় হিসেবে ব্যবহার শুরু করে তৃণমূল। পরবর্তী সময়ে সেটিই ‘তৃণমূল ভবন’ নামে পরিচিত হয়ে ওঠে।
মনোতোষের দাবি, ২০২৫ সালেই তৃণমূলের সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। কিন্তু এক বছর কেটে গেলেও দলীয় কার্যালয় অন্যত্র সরানো হয়নি। তাঁর অভিযোগ, বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর তিনি তৃণমূল নেতৃত্বকে ভবন খালি করার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই বিষয়ে এখনও কোনও স্পষ্ট উত্তর মেলেনি।
রাজনৈতিক মহলে মনোতোষ সাহা পরিচিত মুখ। তাঁর সংস্থা ‘মডার্ন ডেকরেটার্স’ দীর্ঘদিন ধরে তৃণমূলের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে মাইক, মঞ্চ, চেয়ার-টেবিল এবং অন্যান্য সাজসজ্জার সরঞ্জাম সরবরাহ করত। কলকাতা ও জেলার বিভিন্ন সভা-সমাবেশে তাঁর সংস্থার উপস্থিতি ছিল নিয়মিত।
বিরোধী শিবিরের একাংশের দাবি, তৃণমূল সরকারের আমলে মনোতোষের ব্যবসা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। সরকারি বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও প্রকল্পের কাজের বরাতও পেয়েছিল তাঁর সংস্থা। যদিও এই বিষয়ে কোনও সরকারি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এ দিকে মনোতোষের অভিযোগ, বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য সরঞ্জাম সরবরাহ করলেও বহু ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ অর্থ পাননি তিনি। একাধিক বার বকেয়া টাকার দাবি জানানো হলেও তা মেটানো হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর। এখন ভবন খালি করার বিষয়েও কোনও নির্দিষ্ট আশ্বাস না পাওয়ায় তিনি প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সোমবার থানায় জিডি করার পর বিষয়টি কোন দিকে গড়ায়, তার দিকে নজর রাজনৈতিক মহলের।
