33.1 C
Kolkata
June 6, 2026
রাজ্য

মন্দিরের উচ্ছিষ্ট ফুল থেকে তৈরি হবে ধূপবাতি, পরিবেশ রক্ষা ও কর্মসংস্থানে নতুন উদ্যোগ রাজ্যের

কলকাতা, ৬ জুন ২০২৬: পরিবেশ সংরক্ষণ এবং মহিলাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে অভিনব উদ্যোগের পথে হাঁটছে রাজ্য সরকার। বিভিন্ন মন্দিরে পুজোর পর অবশিষ্ট ফুল ও মালা সংগ্রহ করে সেগুলি থেকে ধূপবাতি তৈরির পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করেছেন অগ্নিমিত্রা পাল। সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে একদিকে যেমন মন্দির চত্বরে বর্জ্য কমবে, অন্যদিকে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।

এই পরিকল্পনাকে ঘিরে বিশেষ আশাবাদী তারাপীঠ মন্দির-সহ বীরভূমের বিভিন্ন মন্দির কর্তৃপক্ষ। প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের পুজো দেওয়া ফুল, মালা ও অন্যান্য সামগ্রী মন্দিরে জমা হয়। পুজো শেষে সেই ফুলের বড় অংশই বর্জ্যে পরিণত হয়, যা দীর্ঘদিন ধরে পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে উঠছিল। বিশেষ করে তারাপীঠ এলাকায় এই সমস্যা নিয়ে বারবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

এর আগে মন্দিরের উচ্ছিষ্ট ফুল ও পুজোর সামগ্রী নিকটবর্তী নদীতে ফেলে দেওয়া হত। পরে প্রশাসনের উদ্যোগে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সেই ফুল সংগ্রহ করে জৈব সার তৈরির কাজ শুরু করে। বর্তমানে সেই কাজ চললেও এবার আরও বৃহত্তর পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে চাইছে সরকার। নতুন প্রকল্পের আওতায় এই ফুল থেকেই ধূপবাতি তৈরি করা হবে, যা পরিবেশবান্ধব পণ্যের চাহিদাও পূরণ করবে।

মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানিয়েছেন, প্রতিটি প্রকল্পকেন্দ্রে অন্তত ১৫ জন মহিলার কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। এজন্য পৃথক ওয়ার্কশপ গড়ে তোলা হবে এবং তাঁর দপ্তরের তহবিল থেকেই প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরি করা হবে। সরকারের আশা, ধর্মীয় ভাবাবেগ, পরিবেশ সচেতনতা এবং স্বনির্ভরতার এই সমন্বিত উদ্যোগ রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে।

শুধু তারাপীঠ নয়, বীরভূমের নলাটেশ্বরী, নন্দীকেশ্বরী, ফুল্লরা, কঙ্কালীতলা ও বক্রেশ্বরের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্দিরগুলিতেও প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ ফুল বর্জ্য হিসেবে জমা হয়। সেই সমস্ত ফুল পুনর্ব্যবহার করে ধূপবাতি তৈরি করা গেলে মন্দির চত্বর আরও পরিচ্ছন্ন থাকবে এবং পরিবেশ রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

Related posts

Leave a Comment