পূর্ব মেদিনীপুর, ৫ জুন: পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের এক জেলা পরিষদ পদাধিকারীকে গ্রেপ্তার করল জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। ধৃতের নাম শামসুল ইসলাম। তিনি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পরিষদের স্বাস্থ্য বিভাগের পদাধিকারী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে খবর, সমবায় ব্যাঙ্কের পদাধিকারী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংঘটিত অশান্তি এবং হিংসার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে। সেই মামলাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সম্প্রতি তমলুক-ঘাটাল সেন্ট্রাল কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের পদাধিকারী নির্বাচন চলাকালীন নন্দীগ্রামের দিদারউদ্দিন হাই স্কুলের ভোটকেন্দ্রের সামনে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সেখানে একাধিক দেশি বোমা ছোড়া হয়। ঘটনায় কয়েক জন বিজেপি কর্মী ও নেতা গুরুতরভাবে জখম হন।
ঘটনার পর এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে তদন্তভার দেওয়া হয় জাতীয় তদন্তকারী সংস্থাকে। তদন্ত চলাকালীন শামসুল ইসলামের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নজরদারি চালাচ্ছিল কেন্দ্রীয় সংস্থা।
তদন্তভার গ্রহণের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। অবশেষে নির্দিষ্ট সূত্রে তথ্য পাওয়ার পর পূর্ব মেদিনীপুরের একটি এলাকায় তল্লাশি অভিযান চালায় এনআইএ। সেখান থেকেই শুক্রবার ভোরে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতকে হলদিয়ার একটি আদালতে তোলা হবে। সেখানে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানাবে এনআইএ।
এনআইএ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও কয়েক জনের খোঁজ চলছে। তাঁদের অনেকেই এখনও পলাতক। ধৃত শামসুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই ব্যক্তিদের অবস্থান সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে মনে করছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। তাঁদের অভিযোগ, শামসুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় প্রভাব খাটাতেন। হুমকি, অশান্তি সৃষ্টি, তোলাবাজি এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের সঙ্গেও তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা আদালতে প্রমাণ সাপেক্ষ।
