31 C
Kolkata
June 2, 2026
রাজ্য

দু’দিন ভ্যাপসা গরমের দাপট, বৃহস্পতিবার থেকে দুই বঙ্গেই ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা

কলকাতা, ২৭ মে: তীব্র গরম ও আর্দ্রতার জেরে নাজেহাল রাজ্যবাসী। তবে আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। আগামী দু’দিন ভ্যাপসা গরম বজায় থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকে উত্তর ও দক্ষিণ দুই বঙ্গেই ঝড়বৃষ্টি বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে সপ্তাহের শেষভাগে তাপমাত্রা কিছুটা কমে স্বস্তি মিলতে পারে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বাড়তে পারে। তবে এরপর তাপমাত্রার খুব বেশি পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। মঙ্গলবার কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকবে। কখনও রোদের দেখা মিলবে, আবার কখনও মেঘের আনাগোনা চলবে। সোমবার শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। মঙ্গলবারও সেই তাপমাত্রা প্রায় একই থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

তবে তাপমাত্রা স্থির থাকলেও বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি থাকায় অস্বস্তি ও ভ্যাপসা গরমের অনুভূতি আরও বাড়বে। বিশেষ করে দুপুর ও বিকেলের দিকে গরমের তীব্রতা বেশি অনুভূত হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন আবহাওয়াবিদরা।

আগামী দু’দিন পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৯ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশপাশে ঘোরাফেরা করবে। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান এবং ঝাড়গ্রামের মতো জেলাগুলিতে গরমের দাপট অব্যাহত থাকবে। তবে বৃহস্পতিবার থেকে আবহাওয়ার বড় পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এবং নদিয়া জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা বেশি। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বজ্রপাতের আশঙ্কাও থাকায় সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

শুধু দক্ষিণবঙ্গ নয়, উত্তরবঙ্গেও আবহাওয়ার পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলেছে। মঙ্গল ও বুধবার দার্জিলিংয়ের সমতল এলাকা, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া বজায় থাকলেও বৃহস্পতিবার থেকে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলায় ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর।

আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ সংলগ্ন ঝাড়খণ্ড ও ওড়িশার উপর একটি ঘূর্ণাবর্ত অবস্থান করছে। একই সঙ্গে উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর সংলগ্ন এলাকায় আরও একটি ঘূর্ণাবর্ত সক্রিয় রয়েছে। এই দুই আবহাওয়াগত ব্যবস্থার প্রভাবে বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প রাজ্যে প্রবেশ করছে। ফলে উত্তর ও দক্ষিণ দুই বঙ্গেই ঝড়বৃষ্টির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহের শেষদিকে বৃষ্টির প্রভাবে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি দীর্ঘদিনের ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তিকর আবহাওয়া থেকেও কিছুটা স্বস্তি মিলবে। তবে বজ্রবিদ্যুৎ ও ঝোড়ো হাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কৃষক, মৎস্যজীবী এবং সাধারণ মানুষকে আবহাওয়ার আপডেটের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment