বিধানসভা ভোটের পুনর্ভোটে ফলতা কেন্দ্রে বিপুল জয় পেল বিজেপি। রবিবার ঘোষিত ফলাফলে বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পাণ্ডা ১ লক্ষ ৯ হাজার ২১ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন। দীর্ঘদিনের তৃণমূল গড় বলে পরিচিত ফলতায় এই ফল রাজনৈতিক মহলে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মোট ১ লক্ষ ৪৯ হাজার ৬৬৬ ভোট পেয়েছেন দেবাংশু। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন সিপিএম প্রার্থী সম্ভুনাথ কুর্মি, তাঁর প্রাপ্ত ভোট ৪০ হাজার ৬৪৫। তৃতীয় স্থানে কংগ্রেস প্রার্থী আব্দুর রাজ্জাক, পেয়েছেন ১০ হাজার ৮৪ ভোট।
সবচেয়ে বড় চমক তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গীর খানকে ঘিরে। ভোটের আগে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা করেছিলেন। যদিও মনোনয়ন প্রত্যাহারের সময় পেরিয়ে যাওয়ায় তাঁর নাম ইভিএমে ছিল। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৭ হাজার ৭৮৩ ভোট পেয়ে চতুর্থ স্থানে শেষ করেন তিনি। তৃণমূল ও কংগ্রেস— দুই প্রার্থীরই জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ফল ঘোষণার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সমাজমাধ্যমে লেখেন, “কুখ্যাত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ এবার ‘তৃণমূলের লস-বার মডেল’-এ পরিণত হয়েছে।”
বিজেপি নেতা অমিত মালব্যও কটাক্ষ করে বলেন, “এই ফল শুধু ভোটের জয় নয়, তথাকথিত ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’-এর পতনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফল একাধিক কারণে তাৎপর্যপূর্ণ। তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের পর এই প্রথম কোনও নির্বাচনে দলের প্রার্থী চতুর্থ স্থানে শেষ করলেন। পাশাপাশি ২০১১ সালে তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর এই প্রথম দলের কোনও প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হল।
গত ২১ মে ফলতা কেন্দ্রে পুনর্ভোট হয়েছিল। তার আগে দ্বিতীয় দফার ভোটে ইভিএমে কারচুপির অভিযোগ তোলে বিজেপি। তদন্তের পর নির্বাচন কমিশন পুনর্ভোটের নির্দেশ দেয়।
ফলতার জয়ের পর ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় বিজেপির আসনসংখ্যা দাঁড়াল ২০৮। তৃণমূলের আসন ৮০। কংগ্রেস ও এজেইউপি-র রয়েছে ২টি করে আসন। সিপিএম ও আইএসএফের রয়েছে ১টি করে আসন।
