কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ ও খুনের মামলায় সিবিআই তদন্ত ঘিরে ফের নতুন বিতর্ক তৈরি হল। তমলুকের বিজেপি সাংসদ তথা কলকাতা হাই কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় সরাসরি সিবিআই তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন। তাঁর অভিযোগ, তদন্তে গাফিলতি হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ নষ্ট করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা থাকতে পারে ওই আধিকারিকের।
শনিবার আচমকাই আরজি কর হাসপাতালে পৌঁছন অভিজিৎ। চিকিৎসকের অ্যাপ্রন পরে হাসপাতালের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন তিনি। পরে সিবিআইয়ের সিল করা একটি ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে তদন্ত নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন বিজেপি সাংসদ।
অভিজিতের দাবি, ওই ঘরে গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ পাওয়া যেতে পারত। কিন্তু সিবিআই তা গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখেনি। তাঁর অভিযোগ, তদন্তকারী আধিকারিক সীমা পাহুজার গাফিলতির কারণেই তদন্তে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দিক উপেক্ষিত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, তদন্তকারী আধিকারিককেই এ বার অভিযুক্ত হিসেবে তদন্তের আওতায় আনা উচিত। তাঁর অভিযোগ, প্রমাণ নষ্টের ঘটনায় সীমা পাহুজার ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে আরজি কর হাসপাতালের একটি বন্ধ ঘর থেকে তরুণী চিকিৎসকের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। প্রথমে কলকাতা পুলিশ তদন্ত শুরু করলেও পরে কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে।
তদন্তের পদ্ধতি নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহল থেকে। এমনকি নির্যাতিতার পরিবারও সিবিআই তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছিল। সঞ্জয় রায়ের সাজা ঘোষণার পর নির্যাতিতার বাবা প্রকাশ্যে সীমা পাহুজার ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছিলেন।
শনিবার হাসপাতালের একটি সিঁড়ির দিকেও নজর দেন অভিজিৎ। তাঁর দাবি, ঘটনার সময়ে ওই সিঁড়ি দিয়ে ভারী কিছু নামানো হয়েছিল, যা সম্ভবত দেহ হতে পারে। কিন্তু তদন্তে সেই সিঁড়িকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ তাঁর।
এক নার্সের তোলা ভিডিও নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বিজেপি সাংসদ। তাঁর দাবি, সীমা পাহুজা ওই ভিডিও সংগ্রহ করার পর তা মুছে ফেলতে বলা হয়েছিল। সেই ভিডিও তদন্ত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন অভিজিৎ।
তবে এই সমস্ত অভিযোগ নিয়ে এখনও সিবিআই বা সীমা পাহুজার তরফে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
