April 30, 2026
কলকাতা

ভোট মিটতেই বেহালায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, তৃণমূল নেতাসহ আহত ৫

বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দক্ষিণ কলকাতার বেহালায় চরম উত্তেজনা ছড়াল। রবীন্দ্রনগর রামকৃষ্ণ পল্লি এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা ও কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগ ঘিরে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে জখম হয়েছেন পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন ১২৯ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলর তথা তৃণমূলের সংগঠনিক সম্পাদক অঞ্জন দাস।

দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অঞ্জন দাসের মাথায় গুরুতর চোট লেগেছে। বুধবার রাতে ভোট পর্ব মিটতেই এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ, ভোট শেষে দলীয় কার্যালয়ে বসে থাকা তৃণমূল কর্মীদের উপর হঠাৎই ইট ও বাঁশ নিয়ে হামলা চালায় একদল দুষ্কৃতী। মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং শুরু হয় ব্যাপক ইটবৃষ্টি।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছন অঞ্জন দাস। কিন্তু তাঁকেও রেহাই দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। তাঁকে লক্ষ্য করে ইট ছোড়া হয় এবং লাঠি দিয়ে মারধর করা হয়। ঘটনায় আরও চারজন কর্মী গুরুতর জখম হন।

আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে একজনের শারীরিক অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে এসএসকেএম হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়েছে। কারও হাত ভেঙেছে, কারও মাথায় একাধিক সেলাই পড়েছে, আবার কারও মুখে গুরুতর আঘাত রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছন বেহালা পশ্চিমের তৃণমূল প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘দিনভর শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। আমাদের কর্মীদের সংযত থাকার নির্দেশ ছিল। কিন্তু ভোট শেষ হতেই পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এই বর্বরোচিত আক্রমণ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

তিনি আরও দাবি করেন, ঘটনায় জড়িত কয়েকজনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, তবে সব দোষীকে গ্রেপ্তার না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালানো হবে। পাশাপাশি তিনি প্রশ্ন তোলেন, এই ধরনের ঘটনা ঘটলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কীভাবে নিশ্চিত হবে।

ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় রাতভর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশাল পুলিশ বাহিনী ও র‍্যাফ মোতায়েন করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, এটি তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল।

এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর আপাতত থমথমে বেহালা, এলাকায় জারি রয়েছে কড়া নজরদারি।

Related posts

Leave a Comment