দ্বিতীয় দফার ভোটের একদিন আগে প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে ফের আইনি লড়াইয়ে নামল তৃণমূল কংগ্রেস। এই ইস্যুতে মঙ্গলবার আবারও কলকাতা হাই কোর্ট-এর দ্বারস্থ হয়েছে রাজ্যের শাসক দল।
তৃণমূলের পক্ষ থেকে সাংসদ-আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এবং বিচারপতি পার্থসারথি সেন-এর ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন জানান। তাঁর অভিযোগ, অন্তত ৩৫০ জনকে প্রতিরোধমূলক ভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা আদালতের আগের নির্দেশের পরিপন্থী।
জরুরি শুনানির আবেদন
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই বিষয়ে জরুরি ভিত্তিতে শুনানির আবেদন জানিয়েছেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করেছে এবং মঙ্গলবারই পরবর্তী সময়ে শুনানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এর আগে ২২ এপ্রিল আদালত স্পষ্ট জানিয়েছিল, কাউকে শুধুমাত্র ‘সম্ভাব্য সমস্যা সৃষ্টিকারী’ বলে চিহ্নিত করে ঢালাও গ্রেপ্তার করা যাবে না। আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট বিধি মেনেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।
গ্রেপ্তারির পরিসংখ্যান
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে গত ২৬ এপ্রিল সকাল থেকে ২৭ এপ্রিল সন্ধ্যা পর্যন্ত রাজ্যে ব্যাপক প্রতিরোধমূলক গ্রেপ্তারি হয়েছে। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে—
- গত ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার হয়েছেন ১০৯৫ জন
- ৩৬ ঘণ্টায় মোট গ্রেপ্তারির সংখ্যা ১৫৮৩
জেলাভিত্তিক হিসাবে—
- পূর্ব বর্ধমানে ৪৭৯ জন
- উত্তর ২৪ পরগনায় ৩১৯ জন
- দক্ষিণ ২৪ পরগনায় ২৪৬ জন
- কলকাতা উত্তরে ১০৯ জন
- হুগলিতে ৪৯ জন
- নদিয়া ও হাওড়ায় ৩২ জন করে
রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া
এই গ্রেপ্তারিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। তৃণমূলের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে নির্বিচারে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক অধিকারের পরিপন্থী।
অন্যদিকে কমিশন সূত্রে দাবি, ভোটের আগে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য গ্রেপ্তার
গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের ২২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর নরুগোপাল ভক্ত। এছাড়াও উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে বিজেপি ও তৃণমূল কর্মীদের সংঘর্ষের ঘটনায় চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ভোটের আগে এই ইস্যু ঘিরে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
