দিল্লি: স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের বিভিন্ন আইনে বড়সড় পরিবর্তন আনতে উদ্যোগ নিল কেন্দ্র। নতুন সংশোধনী আইনের মাধ্যমে ছোটখাটো নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে জেলের বদলে আর্থিক জরিমানার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন আইনি জটিলতা কমবে, তেমনই সাধারণ মানুষ ও স্বাস্থ্য পরিষেবা সংস্থাগুলির কাজ সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছে, এই সংশোধনের মূল লক্ষ্য হল নিয়ম মেনে চলার প্রক্রিয়াকে সহজ করা, কিন্তু জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কোনও রকম শিথিলতা না আনা। গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে আগের মতোই কঠোর ব্যবস্থা বহাল থাকবে।
এই সংশোধনের আওতায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আইনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ওষুধ ও প্রসাধনী সংক্রান্ত আইন, ফার্মাসি আইন, খাদ্য সুরক্ষা আইন, ক্লিনিক নিবন্ধন আইন এবং স্বাস্থ্য পেশাজীবীদের নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত আইন— সবকটিতেই পরিবর্তন আনা হয়েছে।
নতুন ব্যবস্থায় ছোটখাটো নিয়মভঙ্গের ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। তার বদলে নির্দিষ্ট জরিমানা দিয়ে বিষয়টি মেটানো যাবে। বিশেষ করে প্রসাধনী সংক্রান্ত ছোটখাটো ত্রুটির ক্ষেত্রে আর ফৌজদারি মামলা হবে না, বরং প্রশাসনিক স্তরেই তা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
ফার্মাসি সংক্রান্ত ক্ষেত্রেও জরিমানার অঙ্ক বাড়িয়ে জবাবদিহি বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। একইসঙ্গে খাদ্য সুরক্ষা আইনে এমনভাবে পরিবর্তন আনা হয়েছে যাতে অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী শাস্তি নির্ধারিত হয়।
ক্লিনিক বা স্বাস্থ্য পরিষেবা কেন্দ্রগুলির ক্ষেত্রেও বড়সড় স্বস্তি মিলতে পারে। যেখানে রোগীর নিরাপত্তা সরাসরি বিপন্ন নয়, সেখানে আর ফৌজদারি মামলা না করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য দপ্তরের মতে, এই পরিবর্তনের ফলে একদিকে যেমন ব্যবসা করা সহজ হবে, তেমনই সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও আরও সহজ হবে। নতুন আইনে মোট ৭৯টি কেন্দ্রীয় আইনের ৭৮৪টি ধারায় সংশোধন আনা হয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অপরাধের শাস্তি কমিয়ে আনা হয়েছে।
