28 C
Kolkata
March 10, 2026
রাজ্য

পণের দাবিতে গৃহবধূর উপর নৃশংস অত্যাচার, মারধরের পর মুখে অ্যাসিড ঢালার অভিযোগে গ্রেপ্তার স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ি

পণের দাবিকে কেন্দ্র করে গৃহবধূর উপর নৃশংস অত্যাচারের অভিযোগ উঠল উত্তর ২৪ পরগনায়। মারধরের পর তরুণীর মুখে অ্যাসিড ঢেলে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনাটি ঘটেছে উত্তর ২৪ পরগনার Barasat মহকুমার Shasan থানার ভাগ্যবন্তপুর এলাকায়।

এই ঘটনায় স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের নাম আলমগীর হোসেন, আক্কাস আলি এবং আম্বিয়া বিবি। গুরুতর জখম অবস্থায় তরুণী নাসরিন খাতুন বর্তমানে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় এক বছর আগে আলমগীরের সঙ্গে নাসরিনের বিয়ে হয়। অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পণের দাবিতে তাঁর উপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। সময়ের সঙ্গে সেই চাপ ক্রমশ শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারে পরিণত হয় বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের।

অভিযোগ, সোমবার বিকেলে নাসরিনকে প্রথমে মারধর করা হয়। এরপর তাঁর মুখে অ্যাসিড ঢেলে দেওয়া হয়। ঘটনার পর সেটিকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলে চালানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার খবর পেয়ে নাসরিনের বাপেরবাড়ির লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। তাঁরা গুরুতর জখম অবস্থায় তরুণীকে উদ্ধার করে প্রথমে Barasat Government Medical College and Hospital-এ নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়।

এরপর পরিবারের তরফে Shasan Police Station-এ লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করে। মঙ্গলবার ধৃতদের Barasat Court-এ তোলা হলে আদালত স্বামী ও শাশুড়িকে পাঁচ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়। শ্বশুরকে পাঠানো হয়েছে জেল হেফাজতে।

নাসরিনের বাবা রসুল আলির অভিযোগ, পরিকল্পনা করেই পণের দাবিতে তাঁর মেয়েকে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের জেরা করে ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্তদের কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন তরুণীর পরিবারের সদস্যরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা।

Related posts

Leave a Comment