28 C
Kolkata
March 10, 2026
রাজ্য

সম্মেলনের আগে এসএফআই নেতার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ, অস্বস্তিতে বাম শিবির

রাজ্যের বাম রাজনীতিতে ফের যৌন হেনস্থার অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ছাত্র সংগঠন Students’ Federation of India-এর এক ছাত্রনেতা। সংগঠনের অন্দরেরই এক মহিলা নেত্রী লিখিতভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন যে, কলকাতা জেলার সম্পাদকমণ্ডলীর এক সদস্য তাঁর বিরুদ্ধে যৌন ও মানসিক হেনস্থার অভিযোগ তুলেছেন।

অভিযোগ ওঠার পরেও সংগঠনের তরফে কার্যত কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ করা হয়নি বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারিণী এবং সংগঠনের একাংশের সদস্যরা।

সূত্রের খবর, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তিনি এসএফআইয়ের রাজ্য কমিটির সদস্যও। একই সঙ্গে জেলা নেতৃত্বের সঙ্গেও তাঁর ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলে অভিযোগ। সেই কারণেই কলকাতার Pramod Dasgupta Bhavan-এ বসে থাকা নেতৃত্ব তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখাচ্ছে— এমনটাই দাবি সংগঠনের ভেতরের একাধিক সূত্রের।

অভিযোগকারিণীর দাবি, অভিযুক্ত ছাত্রনেতার সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক ছিল। ভবিষ্যতে একসঙ্গে জীবন কাটানোর প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন ওই নেতা। সেই সময় তাঁদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্কও তৈরি হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু পরে তিনি জানতে পারেন, একই সময়ে ওই ছাত্রনেতা একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন। এরপর আচমকাই সম্পর্ক থেকে সরে গিয়ে ওই ছাত্রনেতা তাঁকে ‘ইন্টেলেকচুয়ালি নিম্নমানের’ বলে অপমান করেন বলেও অভিযোগ।

ঘটনার পর থেকেই ওই ছাত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলে তাঁর ঘনিষ্ঠদের দাবি। অভিযোগ নিয়ে তিনি জেলা নেতৃত্বের দ্বারস্থ হলে নাকি তাঁকে বলা হয়, “এসব করে কিছু হবে না।” বরং বিষয়টি আর না বাড়ানোর জন্য চাপ দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

সংগঠনের ভেতরে অনেকেই বলছেন, অভিযুক্ত ছাত্রনেতা জেলার সম্পাদক বা সভাপতির দৌড়ে রয়েছেন এবং নিজের প্রভাব খাটিয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্বের জায়গা পাকা করার চেষ্টা করছেন।

জানা যাচ্ছে, ওই ছাত্রনেতা কলকাতা জেলার উত্তরের দিকের একটি আঞ্চলিক কমিটির সদ্য প্রাক্তন সম্পাদক। উত্তর ও মধ্য কলকাতার বাম নেতৃত্বের একাংশ তাঁকে ভবিষ্যতের মুখ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বলেও সংগঠনের অন্দরে আলোচনা চলছে।

এরই মধ্যে ১১ থেকে ১৩ মার্চ কলকাতা জেলার এসএফআইয়ের জেলা সম্মেলন হওয়ার কথা। সম্মেলনের ঠিক আগে এই অভিযোগ সামনে আসায় সংগঠনের অন্দরে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।

অভিযোগকারিণীর দাবি, তাঁর অভিযোগের এখনও কোনও সদুত্তর মেলেনি। বরং উল্টে তাঁকেই বলা হচ্ছে যে তিনি নাকি সম্মেলনকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যেই এই অভিযোগ তুলেছেন। জেলা নেতৃত্বের একাংশ বিষয়টিকে গুরুত্ব না দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও দমদম-লেকটাউন এলাকার এক ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন সংগঠনেরই এক মহিলা নেত্রী। তাঁর দাবি ছিল, ওই নেতা তাঁকে মদ্যপানের প্রস্তাব দিতেন, ফাঁকা ফ্ল্যাটে ডাকতেন এবং যৌন সম্পর্কের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। সেই অভিযোগপত্র পরে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরালও হয়।

অভিযোগকারিণীর দাবি ছিল, তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার পর তাঁকে সংগঠনের কাজ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি তাঁকে দিয়ে অন্য এক কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা যৌন হেনস্থার অভিযোগ সাজানোর চেষ্টাও করা হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

সংগঠনের ভেতর থেকেও তখন একাধিক কর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। অভিযোগ ওঠে যে, উত্তর ২৪ পরগনার এক শীর্ষ Communist Party of India (Marxist) নেতার মদতেই অভিযুক্ত ওই ছাত্রনেতা এতটা প্রভাবশালী হয়ে উঠেছেন।

গত কয়েক বছরে বাম সংগঠনের ভেতরে একাধিকবার যৌন হেনস্থার অভিযোগ সামনে এসেছে। কয়েক মাস আগে কলকাতার Alimuddin Street-এর দলীয় দফতরেও এক মহিলা কর্মী প্রকাশ্যে যৌন হেনস্থার অভিযোগ তুলেছিলেন।

এছাড়া ২০২৫ সালে কলকাতা জেলায় Democratic Youth Federation of India-এর এক যুব নেতার বিরুদ্ধেও যৌন নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। আবার এক Centre of Indian Trade Unions (সিটু) নেতার বিরুদ্ধে এক এসএসসি চাকরিপ্রার্থীর হয়রানির অভিযোগও সামনে এসেছিল।

প্রতিবারই দলীয় নেতৃত্ব শৃঙ্খলাভঙ্গের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। কিন্তু বিরোধীদের অভিযোগ, অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা হয়েছে।

এবার কলকাতা জেলার এসএফআই সম্মেলনের আগে নতুন এই অভিযোগ সামনে আসায় বাম রাজনীতির অন্দরে অস্বস্তি আরও বেড়েছে। সম্মেলনের মঞ্চে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় কি না এবং সংগঠন অভিযোগের গুরুত্ব দিয়ে ব্যবস্থা নেয় কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Related posts

Leave a Comment