29 C
Kolkata
March 9, 2026
বিদেশ

যুদ্ধ দীর্ঘ হলে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার ছুঁতে পারে, সতর্কতা জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা। তেলের দাম হু হু করে বাড়লে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধাক্কার আশঙ্কা।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বড় ধাক্কার মুখে পড়বে এবং বহু দেশে জ্বালানি সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Reuters-এর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ইতিমধ্যেই জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। শুক্রবার আন্তর্জাতিক বাজারে Brent Crude-এর দাম প্রায় ৯ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৩ সালের শরতের পর এটিই সর্বোচ্চ।

কাতারের সতর্কবার্তা
QatarEnergy ইতিমধ্যেই এলএনজি উৎপাদন স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। সংস্থাটি সরবরাহ চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজিউর’ ধারা কার্যকর করেছে বলেও জানা গিয়েছে।

Saad Al-Kaabi এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। তাঁর সতর্কবার্তা, যুদ্ধ যদি আরও কয়েক সপ্তাহ ধরে চলে, তবে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জিডিপি প্রবৃদ্ধি মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।

ইউরোপেও বাড়ছে জ্বালানির দাম

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতিমধ্যেই ইউরোপে পড়তে শুরু করেছে। যুক্তরাজ্যে গাড়িচালকদের সংগঠন RAC জানিয়েছে, সম্প্রতি দেশটিতে পেট্রোলের দাম লিটারপ্রতি প্রায় ৩.৭ পেন্স এবং ডিজেলের দাম ৬ পেন্স বেড়েছে। ফলে গত ১৬ মাসের মধ্যে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তবে আপাতত গৃহস্থালি জ্বালানির বিল বাড়ছে না, কারণ দেশটির জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা Ofgem জুলাই পর্যন্ত বিদ্যুৎ ও গ্যাসের মূল্যসীমা বা ‘প্রাইস ক্যাপ’ নির্ধারণ করে রেখেছে।

হরমুজ প্রণালী ঘিরে উদ্বেগ

বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয় Strait of Hormuz দিয়ে। কিন্তু Iran, United States এবং Israel-কে ঘিরে চলমান উত্তেজনার জেরে এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, উপসাগরীয় দেশগুলি যদি তেল রফতানি করতে না পারে, তবে উৎপাদিত তেল মজুত করতে হবে। কিন্তু মজুতের জায়গা ফুরিয়ে গেলে কয়েক দিনের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হতে পারে দেশগুলি।

বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু পরিবহন খরচই বাড়াবে না, খাদ্য ও আমদানিনির্ভর পণ্যের দামও বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে নতুন করে বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন দেশ জরুরি তেলের মজুদ বাজারে ছাড়তে পারে। তবে সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার মুখে পড়তে পারে বলেই আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।

Related posts

Leave a Comment