দিল্লি—গুজরাটের ঐতিহাসিক সোমনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত সোমনাথ স্বাভিমান পর্বে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ভারতের চিরন্তন বিশ্বাস, আত্মসম্মান ও সভ্যতাগত শক্তির প্রতীক হিসেবে এই উৎসবের তাৎপর্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সোমনাথ মন্দির ধ্বংসের নয়, বরং বিজয়, পুনর্নির্মাণ ও পুনর্জাগরণের এক জীবন্ত প্রতীক। অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতের কোটি কোটি মানুষের অটল বিশ্বাস ও মানসিক দৃঢ়তার প্রতিফলন হল সোমনাথ।
এই স্বাভিমান পর্বে অংশ নেওয়া তাঁর কাছে এক গভীর ব্যক্তিগত ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে একের পর এক আক্রমণ সত্ত্বেও আজও সমুদ্রতীরে মাথা উঁচু করে সোমনাথ মন্দিরের ধ্বজা উড়ছে, যা ভারতের সভ্যতাগত সহনশীলতা ও শক্তির বার্তা বহন করে।প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, সোমনাথের ইতিহাসকে কেবল আক্রমণের কাহিনি হিসেবে দেখা ভুল। যাঁরা এই মন্দির ধ্বংস করতে চেয়েছিল, তাঁরা আজ ইতিহাসের পাতায় সীমাবদ্ধ, কিন্তু সোমনাথ আজও জীবন্ত।
স্বাধীনতার পর এই মন্দির পুনর্নির্মাণের ক্ষেত্রে যে বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল, সেই প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল সোমনাথ পুনর্গঠনের শপথ নিয়েছিলেন, যা ভারতের আত্মসম্মান ও জাতীয় পুনর্জাগরণের প্রতীক হয়ে উঠেছে।প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সোমনাথ মন্দির ভারতের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ। ভগবান শিবের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে প্রথম হিসেবে এই মন্দিরের স্থান অনন্য, যা ভারতের সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতা ও আত্মমর্যাদার বার্তা দেয়।
চারদিনব্যাপী সোমনাথ স্বাভিমান পর্বে প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে পূজা অর্চনা করেন, শৌর্য যাত্রায় অংশ নেন এবং সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের মূর্তিতে শ্রদ্ধা জানান। পাশাপাশি তিনি শ্রী সোমনাথ ট্রাস্টের বৈঠকে সভাপতিত্ব করে তীর্থযাত্রীদের সুবিধা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা করেন।অনুষ্ঠানের সময় এক হাজার সেকেন্ড ধরে ওমকার ধ্বনিতে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অভিজ্ঞতা তাঁকে গভীর ইতিবাচক শক্তি ও মানসিক প্রশান্তি দিয়েছে।
এছাড়াও সোমনাথ মন্দির প্রাঙ্গণে আয়োজিত ড্রোন শোতে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে প্রাচীন আধ্যাত্মিকতার অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়। প্রধানমন্ত্রী জানান, সোমনাথের পবিত্র ভূমি থেকে এই আয়োজন গোটা বিশ্বকে ভারতের সাংস্কৃতিক শক্তি ও আত্মবিশ্বাসের বার্তা দিয়েছে।
