December 8, 2025
উত্তর সম্পাদকীয়

হালাল অর্থনীতিকে কাউন্টার করে বাংলার বুকে নতুন শিল্প ভাবনা নিয়ে আসতে হবে

শঙ্কর মণ্ডল: আমি সতেরও মা ও অসতেরও মা। হ্যাঁ, এটা মা সারদার কথা। ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী মা সারদা এটা বলতেই পারেন। এর ব্যাখা সাধারণ মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয়। কিন্তু এ যুগের তথাকথিত মা সারদার অবতার কি এই মন্তব্যকে নিজের জীবনে প্রয়োগ করে প্রমাণ করতে চাইছেন যে, তিনি সত্যিই মা সারদার অবতার? তা না হলে তার সাধের কেষ্ট সম্পর্কে আজ বিচারপতির মন্তব্যকে ভুল প্রমাণ করতে তার অনুপ্রাণিতরা যেভাবে চিৎকার করছে, তাকে তিনি যে সমর্থন করছেন, সেটা তাঁর নীরবতার মাধ্যমেই প্রমাণ করছে। ঠিক যেমন ফিরহাদ হাকিম হুক্কা বার প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে চোলাইয়ের ব্যবসা অনেক লাভজনক বলে যে বক্তব্য রাখলেন, তাতে কি এই অসৎ ছেলের মা হিসাবেই কি মমতা ব্যানার্জি নিরব থাকবেন? বন্দে ভারতে যেভাবে একের পর এক পাথর বৃষ্টি, যা কাশ্মীরের ঘটনাকে মনে করাচ্ছে, তখনও উনি এটাকে এড়িয়ে গিয়ে, গঙ্গা সাগরে গিয়ে ফোকাস ঘুরিয়ে দেওয়ার যে চেষ্টা করলেন, তখনও প্রাসঙ্গিকতাকেই যে শক্তিশালী করছে, এটা কি বলার অপেক্ষা রাখে না?

অন্যদিকে, নিয়োগ দুর্নীতির কন্ট্রোলটা যে পর্ষদ অফিস থেকেই হত, তা আজ বিচারপতির মন্তব্য থেকেই প্রকাশ পাচ্ছে। আজও বেশ কিছু নিযুক্ত ব্যক্তির মাইনে বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার মানে এই পুরো নিয়োগ পদ্ধতিটাই যে বেআইনি ও শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দুর্নীতি ছিল, তা আবারও প্রমাণ করল। অর্থাৎ এই পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাটায় অসৎ ব্যক্তিদের দ্বারা পরিচালিত হত, আর এরা সকলেই মাননীয়ার অনুপ্রাণিত। কারণ ওনার অনুপ্রেরণা ছাড়া এই রাজ্যের একটা গাছের পাতাও নড়ে না। আর তাই তো এই মুহূর্তে পুরো রাজ্যটার বুকে চলছে কেবল অসৎ লোকেদের দাপাদাপি। আর সেই রোগ ছড়িয়ে পড়েছে সর্বত্র। এমনকি হিন্দু আন্দোলনেও অংশগ্রহণকারীদেরকেও এই অসৎ ভাইরাস স্পর্শ করিয়ে তাঁদের আক্রান্ত করতে সক্ষম হয়েছেন, এই তথাকথিত অবতার। কিন্তু এই ভাইরাস বা যতবড় দৈত্যই হোক না কেন, এর ধ্বংস অবশ্যম্ভাবী। কারণ অধর্মের বিনাশ হবেই। তা সে যতবড়ই শক্তিশালী হোক না কেন।

এই রাজ্যের বুকে অর্থনৈতিক বিপ্লব আনতেই হবে। তা না হলে বাংলার ভবিষ্যত প্রবল সঙ্কটে। একদিকে হালাল অর্থনীতির দাপট এবং তার মাধ্যমে যুবকদের শেষ করে দেওয়া যেমন সহজ হবে, সেই সঙ্গে যেহেতু রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল হয়ে আছে, জেহাদী মদতপুষ্ট শক্তির হাতে, সেহেতু এই রাজ্যের সার্বভৌমত্ব বিশেষ করে এই রাজ্যটাকে বৃহত্তর বাংলাদেশ বানানো অত্যন্ত সহজ কাজ হবে। তাই এই মুহূর্তে আমাদের নামতে হবে অর্থনৈতিক পরিকল্পনায়। সরকারি কর্মসংস্থানের অপেক্ষা না করে, যেহেতু এই রাজ্যটা কৃষি নির্ভর। সেহেতু কৃষিক্ষেত্রে আনতে হবে এক অভাবনীয় বিপ্লব। সরকারি সহযোগিতায় এই বিপ্লব যেহেতু হবে না সদিচ্ছার অভাবে, সেহেতু সমবায় আন্দোলনের মাধ্যমে এই কাজ সম্ভব করতে হবে। এর প্রভূত উদাহরণ আছে। বাংলার বুকে নতুন নতুন শিল্প ভাবনা নিয়ে আসতে হবে। তবে সবকিছুই হালাল অর্থনীতিকে কাউন্টার করেই করতে হবে। বিস্তারিত ব্যাখা ও প্রকল্প চাইলেই দিতে প্রস্তুত, সংযুক্ত হিন্দু ফ্রন্ট এই জন আন্দোলনে নিয়োজিত আছে। সহযোগিতা প্রার্থীনীয়।

Related posts

Leave a Comment