৩০ সপ্তাহের বেশি গর্ভধারণে ধর্ষিত এক নাবালিকার গর্ভপাতের অনুমতি সংক্রান্ত মামলায় বড় মন্তব্য করল Supreme Court of India। এইমস দিল্লির পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করে আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, গর্ভপাতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নাবালিকা ও তার পরিবার—কোনও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান নয়।
প্রধান বিচারপতি Surya Kant এবং বিচারপতি Joymalya Bagchi-র বেঞ্চ জানায়, ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের অধিকার কেড়ে নেওয়া যায় না। চিকিৎসকরা চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য দিতে পারেন, কিন্তু সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়ার অধিকার তাদের নেই।
আদালত নির্দেশ দেয়, নাবালিকা ও তার পরিবারকে সমস্ত ঝুঁকি ও সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে বোঝাতে হবে, যাতে তারা সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত পরিবারেরই হবে বলে স্পষ্ট করে দেয় বেঞ্চ।
এর আগে All India Institute of Medical Sciences আদালতের কাছে আবেদন জানিয়ে বলেছিল, এত দেরিতে গর্ভপাত ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে এবং গর্ভ বজায় রাখলে ভ্রূণের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। কিন্তু আদালত এই যুক্তিতে সায় দেয়নি এবং জানায়, বিষয়টি রাষ্ট্র বনাম ভুক্তভোগীর লড়াইয়ে পরিণত করা উচিত নয়।
আদালত আরও জানায়, ধর্ষণের ফলে হওয়া অনিচ্ছাকৃত গর্ভধারণ কোনওভাবেই ভুক্তভোগীর ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। ভ্রূণের চেয়ে মায়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত বলেও মত আদালতের।
একই সঙ্গে কেন্দ্র সরকারকে Medical Termination of Pregnancy Act পুনর্বিবেচনার পরামর্শ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। বিশেষ করে ধর্ষণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সময়সীমা শিথিল করার প্রয়োজন রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে আদালত।
