পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক পালাবদলের আবহে সামনে এসেছে এক আশ্চর্য সমাপতন। সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মা গায়ত্রী দেবী, আর নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মায়ের নামও গায়ত্রী দেবী। ফলে বাংলার গত দুই দশকের দুই প্রধান রাজনৈতিক মুখকে যেন এক অদৃশ্য সুতোয় বেঁধে ফেলেছে ‘গায়ত্রী’ নামটি।
এক গায়ত্রীর কন্যা টানা ১৫ বছর বাংলা শাসন করেছেন। অন্য গায়ত্রীর পুত্র এখন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী। রাজনৈতিক মহলে এই বিষয়টি এখন বিশেষ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের রাজনৈতিক জীবনে তাঁর মা গায়ত্রী দেবীর প্রভাব ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কালীঘাটের সাধারণ পরিবারে বেড়ে ওঠা মমতার সংগ্রামী জীবনের পেছনে মায়ের অনুপ্রেরণার কথা তিনি বহুবার উল্লেখ করেছেন। ২০১১ সালে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সময়ও গায়ত্রী দেবী মেয়ের সাফল্যে অত্যন্ত খুশি ছিলেন। সেই বছরের শেষেই তাঁর প্রয়াণ ঘটে।
অন্যদিকে, নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মা গায়ত্রী দেবী দীর্ঘদিন ধরেই অধিকারী পরিবারের অন্যতম স্তম্ভ। তিনি জনসমক্ষে খুব বেশি না এলেও পরিবারের ভিত শক্ত করে ধরে রেখেছেন তিনিই। এখনও অধিকারী পরিবারের ঐতিহ্যের কেন্দ্রবিন্দু গায়ত্রী দেবী। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, সাম্প্রতিক নির্বাচনের ফল নিয়ে তিনি আগেই আশাবাদী ছিলেন। বাড়ির ছাদের গাছে পদ্মফুল ফোটাকে তিনি শুভ লক্ষণ হিসেবে দেখেছিলেন বলেও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজনীতির ময়দানে শুভেন্দু যতই কঠোর এবং আক্রমণাত্মক নেতা হিসেবে পরিচিত হোন না কেন, মায়ের কাছে তিনি এখনও অত্যন্ত সাধারণ মানুষ। গায়ত্রী দেবী জানিয়েছেন, শুভেন্দু এখনও সাধারণ খাবারেই সবচেয়ে বেশি স্বচ্ছন্দ। ছোটবেলা থেকে ধর্মীয় আচার, বাগান পরিচর্যা এবং শৃঙ্খলাপূর্ণ জীবনযাপনের শিক্ষা তিনি পরিবারের কাছ থেকেই পেয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন প্রতীকী মিল অত্যন্ত বিরল। একদিকে কালীঘাট, অন্যদিকে কাঁথি— দুই আলাদা রাজনৈতিক ধারার দুই নেতাকে আজ যেন একই নামের আবেগে যুক্ত করেছে সময়।
