দিল্লি: ১২ জুন, ২০২৫-এ আহমেদাবাদে ঘটে যাওয়া এয়ার ইন্ডিয়া বিমান দুর্ঘটনা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট বুধবার ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং তদন্তের রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
এয়ারক্রাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) AI-171 বিমানের দুর্ঘটনার তদন্ত করছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রু-সহ মোট ২৬০ জনের মৃত্যু হয়। কেবল একজন যাত্রী প্রাণে বেঁচে যান। এছাড়া মাটিতে থাকা আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়।
সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা আদালতকে জানান যে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং তদন্ত চলছে এবং আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে তা সম্পূর্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এরপরই প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তিন সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করে।
আদালত AAIB এতদিনে যে প্রক্রিয়াগত প্রোটোকল অনুসরণ করেছে, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী তার একটি বিস্তারিত রিপোর্ট এবং তদন্তের অগ্রগতির রিপোর্টও জমা দিতে বলেছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, “সলিসিটার জেনারেল তুষার মেহতা জানিয়েছেন যে আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং তদন্ত চলছে এবং তিন সপ্তাহের মধ্যে সম্পূর্ণ হবে। তিনি সিল করা খামে রিপোর্ট জমা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন, সঙ্গে এতদিনে অনুসৃত প্রক্রিয়াগত প্রোটোকল সম্পর্কিত হলফনামাও জমা দেবেন। তদন্তের অগ্রগতি ও কমপ্লায়েন্স রিপোর্ট রেকর্ডে পেশ করা হোক।”
এই নির্দেশ জারি হয় এনজিও ‘সেফটি ম্যাটার্স ফাউন্ডেশন’-এর দায়ের করা একটি জনস্বার্থ মামলার (PIL) প্রেক্ষিতে। আবেদনে দাবি করা হয়েছিল যে AAIB-এর তদন্ত নাগরিকদের জীবন, সমতা এবং সত্য তথ্য জানার মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী।
এয়ার ইন্ডিয়া AI-171 ফ্লাইটটি, একটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, আহমেদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে উড্ডয়নের কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ভেঙে পড়ে। বিমানটির পাইলট-ইন-কমান্ড ছিলেন ক্যাপ্টেন সুমিত সভরওয়াল এবং সহ-পাইলট ছিলেন ক্যাপ্টেন ক্লাইভ কুন্ডার।
মৃত ২৪১ জনের মধ্যে ১৬৯ জন ভারতীয়, ৫২ জন ব্রিটিশ, ৭ জন পর্তুগিজ, ১ জন কানাডিয়ান এবং ১২ জন ক্রু সদস্য ছিলেন। একমাত্র জীবিত ব্যক্তি ছিলেন ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বাশকুমার রমেশ।
