32 C
Kolkata
October 13, 2026
রাজ্য

প্রশান্ত বর্মনকে সুপ্রিম কোর্টের ভর্ৎসনা

সংবাদ কলকাতা:— স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনের মামলায় অভিযুক্ত রাজগঞ্জের প্রাক্তন বিডিও প্রশান্ত বর্মন সুপ্রিম কোর্টে গিয়েও স্বস্তি পেলেন না। কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে করা তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়েছে শীর্ষ আদালত। একই সঙ্গে প্রশান্তের ভূমিকা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে রাজ্য প্রশাসনের কাছেও জবাব চেয়েছে বিচারপতিদের বেঞ্চ।

মঙ্গলবার বিচারপতি অরবিন্দ কুমার এবং বিচারপতি বিপুল মনুভাই পঞ্চোলীর বেঞ্চে মামলাটি ওঠে। শুনানিতে প্রশান্তের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত। বিচারপতিদের মন্তব্য, ‘একজন ব্যক্তি পুরো ব্যবস্থাকে উপহাস করে রেখে দিয়েছেন।’ এর আগে আদালতের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও কেন প্রশান্ত আত্মসমর্পণ করেননি, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে বেঞ্চ।

প্রশান্তের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত জানতে চায়, তাঁর মক্কেল এখনও আত্মসমর্পণ করেননি কেন। শীর্ষ আদালতের পর্যবেক্ষণ, আদালতের নির্দেশ অমান্য করে কী ভাবে একজন ব্যক্তি এ ভাবে থাকতে পারেন, তা নিয়ে তারা বিস্মিত। পাশাপাশি রাজ্য প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলে সুপ্রিম কোর্ট। রাজ্যকে উদ্দেশ করে বিচারপতিরা বলেন, ‘আপনারা কী করছেন? হাই কোর্টের নির্দেশ মেনে এখনই পদক্ষেপ করুন।’

কলকাতা হাই কোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে প্রশান্তের আবেদনেও হস্তক্ষেপ করতে রাজি হয়নি সুপ্রিম কোর্ট। ফলে আত্মসমর্পণ এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নিয়ে হাই কোর্টের নির্দেশই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

এর আগে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি রবীন্দ্র ভি ঘুগের বেঞ্চ প্রশান্তকে আত্মসমর্পণের জন্য ৪৮ ঘণ্টা সময় দিয়েছিল। গত বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাঁকে আত্মসমর্পণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি আত্মসমর্পণ করেননি বলে অভিযোগ। পরিবর্তে ওই দিনই হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।

হাই কোর্ট আরও নির্দেশ দিয়েছিল, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে প্রশান্তের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। তাঁর সমস্ত সম্পত্তির তালিকা তৈরির নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি অবিলম্বে তাঁর বেতন বন্ধ করার জন্য রাজ্যকে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত।

স্বর্ণ ব্যবসায়ীকে অপহরণ ও খুনের মামলায় প্রশান্তের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এবং আদালতের নির্দেশ অমান্য করার বিষয়টি এখন তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সুপ্রিম কোর্টের এ দিনের পর্যবেক্ষণের পর রাজ্য প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে, সেদিকেই নজর রয়েছে।

Related posts

Leave a Comment