দিল্লি— কেরলের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা সিপিএম নেতা পিনারাই বিজয়ন, তাঁর মেয়ে বীণা বিজয়ন এবং বীণার স্বামী মহম্মদ রিয়াজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত সাত দিনের জন্য স্থগিত রাখার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সিএমআরএল-এক্সালজিক মামলায় কেরল হাই কোর্টের এফআইআর দায়েরের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিজয়ন। বুধবার বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার অবকাশকালীন বেঞ্চ এই অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়।
গত ৯ অক্টোবর কেরল হাই কোর্ট কোচিন মিনারেলস অ্যান্ড রুটাইল লিমিটেড (সিএমআরএল) এবং এক্সালজিক সলিউশনসকে ঘিরে বেআইনি আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে বিজয়ন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ কার্যকর করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল কেরল পুলিশের ভিজিল্যান্স অ্যান্ড অ্যান্টি-করাপশন ব্যুরোকে। হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেন বিজয়ন।
বিজয়নের আইনজীবী সিদ্ধার্থ লুথরা গত ১৬ অক্টোবর জরুরি শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, বিজয়ন, তাঁর মেয়ে ও জামাইয়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই এফআইআর দায়ের হয়েছে। তাই তদন্তের প্রক্রিয়া নিয়ে শীর্ষ আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। প্রথমে মামলাটি ২৬ অক্টোবরের পরে শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করার কথা জানানো হলেও পরে অবকাশকালীন বেঞ্চে শুনানির ব্যবস্থা করা হয়।
সুপ্রিম কোর্টের বুধবারের নির্দেশে সাত দিনের জন্য তদন্ত স্থগিত থাকবে। একই সঙ্গে আবেদনকারীদের কেরল হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে গিয়ে এফআইআর দায়েরের নির্দেশের বিরুদ্ধে নতুন করে আবেদন করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। হাই কোর্টকে আইনের ভিত্তিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের ফলে নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে ওই মামলায় বিজয়ন ও তাঁর মেয়ে-জামাইয়ের বিরুদ্ধে তদন্তকারী সংস্থা গ্রেপ্তারের পদক্ষেপ করতে পারবে না।
এই মামলার সূত্রপাত একটি আর্থিক লেনদেনকে ঘিরে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের রিপোর্টের ভিত্তিতে কেরল পুলিশকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগ, সরকারি খনি সংস্থা সিএমআরএল তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত পরামর্শ পরিষেবার নামে বীণা বিজয়নের মালিকানাধীন সংস্থা এক্সালজিক সলিউশনসকে প্রায় ২ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা দিয়েছিল। ওই অর্থের বিনিময়ে বাস্তবে কোনও পরিষেবা দেওয়া হয়েছিল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তদন্তকারী সংস্থা।

ইডির দাবি, পিনারাই বিজয়ন কেরলের মুখ্যমন্ত্রী থাকাকালীন তাঁর মেয়ের মাধ্যমে সিএমআরএলের কাছ থেকে অর্থ পেয়েছিলেন। সেই অর্থের একটি অংশ পরে বিদেশে পাঠানো হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। তবে এই অভিযোগগুলি তদন্তের বিষয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলিকে অপরাধ হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যায় না।
গত ২৭ মে বিজয়নের তিরুঅনন্তপুরমের ভাড়াবাড়ি এবং কান্নুরে তাঁর পারিবারিক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েছিল ইডি। মামলায় বীণার স্বামী মহম্মদ রিয়াজের নামও উঠে এসেছে। তিনি কেরলের পূর্ববর্তী বাম সরকারের পূর্তমন্ত্রী ছিলেন। ইডি এই মামলায় পাওয়া নথি ও তথ্যের ভিত্তিতে দুর্নীতিদমন আইনে এফআইআর দায়েরের সুপারিশ করেছিল।
অন্য দিকে, সিপিএমের তরফে এই তদন্তকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। কেরলের কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন সরকারের পদক্ষেপের সমালোচনা করে বাম নেতৃত্বের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই মামলা এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। তবে মামলার অভিযোগ, তদন্তের নথি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির বক্তব্য খতিয়ে দেখেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে আদালত।
সাত দিনের স্থগিতাদেশের ফলে আপাতত তদন্তের প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিরতি তৈরি হল। এখন কেরল হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে পরবর্তী শুনানি এবং সুপ্রিম কোর্টের অন্তর্বর্তী নির্দেশের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরে মামলার গতিপথ কোন দিকে যায়, সে দিকেই নজর রয়েছে।
