পটনা, ১৪ ডিসেম্বর: দলের সর্বভারতীয় কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনল বিজেপি। বিহার সরকারের মন্ত্রী নীতিন নবীনকে দলের জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। রবিবার বিজেপির সংসদীয় পর্ষদের অনুমোদনের পরই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানানো হয়েছে। জেপি নাড্ডার সর্বভারতীয় সভাপতি হিসেবে মেয়াদ শেষ হওয়ায় আপাতত জাতীয় সংগঠনের দায়িত্ব নীতিন নবীনের হাতেই তুলে দেওয়া হল।দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব নাড্ডার উত্তরসূরি খুঁজছিল।
বিষয়টি নিয়ে দফায় দফায় আলোচনাও চলছিল। সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন সংগঠনের দৈনন্দিন কাজকর্ম সামলানোর জন্য জাতীয় কার্যনির্বাহী সভাপতির পদে নীতিন নবীনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক অরুণ সিংহের জারি করা চিঠিতে এই নিয়োগের কথা জানানো হয়েছে। ওই চিঠিতে স্পষ্ট করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হয়েছে এবং জাতীয় সভাপতি, রাজ্যগুলির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা, রাজ্য সভাপতি ও সংগঠনের সাধারণ সম্পাদকদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।প্রসঙ্গত, নীতিন নবীন বর্তমানে পটনার ব্যাংকিপুর কেন্দ্রের বিধায়ক। তিনি বিহারের প্রখ্যাত বিজেপি নেতা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহার পুত্র। সদ্য শেষ হওয়া বিধানসভা নির্বাচনে তিনি রাষ্ট্রীয় জনতা দলের প্রার্থী রেখা কুমারিকে পরাজিত করেন।
টানা চারবার বিধায়ক নির্বাচিত হওয়া নীতিন নবীনকে দলের অন্দরমহলে শৃঙ্খলারক্ষাকারী ও নিষ্ঠাবান সংগঠক হিসেবে দেখা হয়।জানা গিয়েছে, ছাত্র রাজনীতি থেকে শুরু করে সংগঠনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে নীতিন নবীনের। ধাপে ধাপে সংগঠন ও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলে তিনি দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে উঠেছেন। বর্তমানে বিহার সরকারের সড়ক নির্মাণ দপ্তরের মন্ত্রী হিসেবে তাঁর কাজকর্মও প্রশংসিত বলে দলীয় সূত্রের দাবি।পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সি নীতিন নবীনকে বিজেপির তরুণ ও উদ্যমী নেতৃত্বের অন্যতম মুখ হিসেবে ধরা হয়। আধুনিক ভাবনাচিন্তা ও প্রশাসনিক দক্ষতার কারণে দলীয় নেতৃত্বের আস্থা অর্জন করেছেন তিনি।
জাতীয় স্তরে তাঁর এই নিয়োগকে বিজেপির সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির দিকেই একটি তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।প্রসঙ্গত, আসন্ন রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের আগে সংগঠন ঢেলে সাজানোর কাজ শুরু করেছে বিজেপি। তারই অঙ্গ হিসেবে উত্তরপ্রদেশে রাজ্য সভাপতি পদেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের মতে, জাতীয় ও রাজ্য স্তরে এই সাংগঠনিক রদবদলের মাধ্যমে দল আগামী দিনের লড়াইয়ের জন্য নিজেদের আরও প্রস্তুত করে নিচ্ছে।
