শ্রীনগর, ১৬ ডিসেম্বর: পহেলগামে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা মামলায় জাতীয় তদন্ত সংস্থা এনআইএ ১,৫৯৭ পাতার চার্জশিট পেশ করল। সোমবার দুপুরে শ্রীনগরের এনআইএ বিশেষ আদালতে জমা দেওয়া এই চার্জশিটে মোট সাত জন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তালিকায় রয়েছে পাকিস্তানভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবা এবং তার শাখা সংগঠন দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট। দুটি জঙ্গি সংগঠনকেই এই মামলায় একটি আইনি সত্তা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
চার্জশিটে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, পহেলগাম হামলার পরিকল্পনা, সহায়তা এবং কার্যকর করার নেপথ্যে সুপরিকল্পিত পাকিস্তানি ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। ধর্মের ভিত্তিতে বেছে বেছে হত্যার এই নৃশংস হামলায় ২৫ জন পর্যটক এবং এক জন স্থানীয় নাগরিকের মৃত্যু হয়েছিল, যা দেশজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করে।
এনআইএর চার্জশিটে পাকিস্তানি হ্যান্ডলার জঙ্গি সাজিদ জাট্টের নামও অভিযুক্ত হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি, হামলার কয়েক সপ্তাহ পরে শ্রীনগরের ডাচিগামে অপারেশন মহাদেব অভিযানে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে নিহত তিন পাকিস্তানি জঙ্গিকেও অভিযুক্ত হিসেবে দেখানো হয়েছে। এরা হল— ফয়সাল জাট্ট ওরফে সুলেমান শাহ, হাবিব তাহির ওরফে জিবরান এবং হামজা আফগানি।
লস্কর-ই-তইবা ও দ্য রেজিস্ট্যান্স ফ্রন্ট ছাড়াও উপরোক্ত চার জঙ্গির বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩, অস্ত্র আইন ১৯৫৯ এবং বেআইনি কার্যকলাপ প্রতিরোধ আইন ১৯৬৭ অনুযায়ী একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে। চার্জশিটে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট দণ্ডবিধির ধারাও যুক্ত করা হয়েছে।
এনআইএর দাবি, প্রায় আট মাস ধরে চলা বিজ্ঞানভিত্তিক ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে তারা মামলার ষড়যন্ত্রের সূত্র সরাসরি পাকিস্তানে খুঁজে পেয়েছে। মামলার নম্বর আরসি–০২/২০২৫/এনআইএ/জেএমইউ অনুযায়ী এই তদন্তে উঠে এসেছে যে পাকিস্তান দীর্ঘদিন ধরেই ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদে মদত জুগিয়ে আসছে।
এই মামলায় সন্ত্রাসবাদীদের আশ্রয় দেওয়ার অভিযোগে গত ২২ জুন ২০২৫ এনআইএ যে দুই জনকে গ্রেপ্তার করেছিল— পারভেজ আহমদ ও বশির আহমদ জোথাত— তাদের বিরুদ্ধেও চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। জেরা চলাকালীন তারা হামলায় যুক্ত তিন সশস্ত্র জঙ্গির পরিচয় প্রকাশ করে এবং নিশ্চিত করে যে তারা সকলেই পাকিস্তানি নাগরিক ও নিষিদ্ধ লস্কর-ই-তইবার সঙ্গে যুক্ত।
এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ শ্রীনগরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে, এখন সিদ্ধান্ত নেবে আদালত। আমি বরাবরই বলে এসেছি, এই ধরনের বিষয় বিচারব্যবস্থার হাতেই থাকা উচিত। কে দোষী আর কে নির্দোষ, তা নির্ধারণ করার কাজ আমার বা অন্য কারও নয়। আইন আছে, আদালত আছে, এবং আদালতই চূড়ান্ত রায় দেবে। এনআইএর দায়িত্ব ছিল তদন্ত করা, এবং সেই তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।’
এনআইএ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই মামলায় তদন্ত এখনও চলমান এবং প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও তথ্য আদালতের সামনে পেশ করা হতে পারে।
