30 C
Kolkata
August 31, 2026
রাজ্য

মুখ্যমন্ত্রীর হুঁশিয়ারির পরেই পদক্ষেপ, যাদবপুরে দেশবিরোধী দেওয়াল লিখন মুছে সাদা রং

সংবাদ কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দেওয়ালজুড়ে থাকা বিতর্কিত স্লোগান ও লেখাগুলি মুছে দিতে শনিবার থেকে সাদা রং করার কাজ শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল থেকে ‘দেশবিরোধী’ স্লোগান ও আবর্জনা সরানোর নির্দেশ দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই এই পদক্ষেপ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অবশ্য দাবি করেছে, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশের সঙ্গে এই কাজের কোনও সরাসরি সম্পর্ক নেই। ক্যাম্পাস পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সৌন্দর্যায়নের অংশ হিসাবেই দেওয়ালগুলি রং করা হচ্ছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, ক্যাম্পাসের বিভিন্ন দেওয়ালে দীর্ঘদিন ধরেই নানা ধরনের লেখা ও স্লোগান রয়েছে। সেগুলি দেখতে দৃষ্টিকটু হওয়ায় নিয়মিত পরিচ্ছন্নতার কাজের অংশ হিসেবে দেওয়াল রং করা হয়েছে। পাশাপাশি পড়ুয়াদের কোনও দাবি বা বক্তব্য থাকলে দেওয়ালে লেখার পরিবর্তে নির্দিষ্ট প্রদর্শন বোর্ড ব্যবহার করার আবেদন জানানো হয়েছে।

তবে কর্তৃপক্ষের এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআই। সংগঠনের দাবি, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াললিখন শুধু কিছু স্লোগান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে দীর্ঘদিনের প্রতিবাদী ছাত্র আন্দোলনের ইতিহাস। সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হিসাবেই বহু স্লোগান সেখানে লেখা হয়েছে বলে দাবি তাদের।

এসএফআইয়ের বক্তব্য, দেওয়ালে সাদা রং লাগিয়ে ঐতিহাসিক প্রতিবাদী চেতনাকে মুছে ফেলা সম্ভব নয়। সংগঠনের তরফে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে, দেওয়াল মুছে দেওয়া হলেও ফের সেখানে সাম্রাজ্যবাদ ও ফ্যাসিবাদবিরোধী স্লোগান লেখা হবে।

সম্প্রতি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে এবিভিপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনের সংঘর্ষের ঘটনায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। সেই আবহেই কলা বিভাগের দেওয়াললিখন নিয়ে সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। ‘রেড স্যালুট কিষেণজি’ কিংবা ‘কাশ্মীর মাঙ্গে আজাদি’-র মতো স্লোগান বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়ালে কেন থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। যাদবপুরের মতো ‘সেন্টার ফর এক্সেলেন্স’-এ এই ধরনের সংস্কৃতির জায়গা থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।

পাশাপাশি, বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ছড়িয়ে থাকা আপত্তিকর ছবি ও ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। সেই নির্দেশের পরই দেওয়াল পরিষ্কারের কাজ শুরু হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পরেই কি কর্তৃপক্ষ তৎপর হয়েছে? যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি কোনও চাপের ফল নয়, বরং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যায়নেরই অংশ।

ফলে দেওয়াল মুছে ফেলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাদবপুরে ফের শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। এক দিকে কর্তৃপক্ষের পরিচ্ছন্নতার যুক্তি, অন্য দিকে এসএফআইয়ের প্রতিবাদী ঐতিহ্য রক্ষার দাবি—দুই পক্ষের অবস্থানে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে ক্যাম্পাসে।

Related posts

Leave a Comment