যুদ্ধ ও সংঘর্ষের আবহে হঠাৎই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল ইরানের বিস্তীর্ণ এলাকা। রিখটার স্কেলে এই কম্পনের মাত্রা ছিল ৪.৩। এখনও পর্যন্ত বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর না মিললেও আচমকা কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়েছে বাসিন্দাদের মধ্যে। পাশাপাশি এই ভূমিকম্পকে ঘিরে নতুন করে জল্পনা তৈরি হয়েছে—এটি কি সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ঘটনা, নাকি এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সামরিক কর্মকাণ্ড?
মঙ্গলবার ভোরে দক্ষিণ ইরানের ফারস প্রদেশের গেরাশ অঞ্চলের কাছে এই কম্পন অনুভূত হয়। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক সংস্থা United States Geological Survey-এর তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। এখনও পর্যন্ত কোনও সুনামি সতর্কতাও জারি করা হয়নি।
তবে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে এই ভূমিকম্প ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একাংশের মতে, এটি হয়তো সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ভূমিকম্প। আবার অন্য একটি মহলের সন্দেহ, মাটির নিচে আঘাত হানতে সক্ষম তথাকথিত ‘সিসমিক বোমা’ বা ভূমিকম্প সৃষ্টিকারী অস্ত্র ব্যবহারের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। কেউ কেউ মনে করছেন, ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনা বা গুরুত্বপূর্ণ কাঠামো লক্ষ্য করেই হয়তো হামলা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের আরেকটি অংশের অনুমান, ইরানের সম্ভাব্য পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্ক রয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে কোনও ধরনের পারমাণবিক পরীক্ষা হয়েছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠছে। যদিও এই দাবির পক্ষে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ সামনে আসেনি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করেছে United States এবং Israel। ওই দিনই রাজধানী তেহরানে হামলার ঘটনায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। তার পর থেকেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এর পাল্টা জবাব দিতে ইরানও একাধিক স্থানে হামলা চালিয়েছে। মঙ্গলবার ভোরেও বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাস লক্ষ্য করে আক্রমণের অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি ইরানের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে মিসাইল ও বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে।
এই সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেই ভূমিকম্পের ঘটনা নতুন করে আতঙ্ক বাড়িয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। যদিও আপাতত কম্পনের মাত্রা তুলনামূলক কম হওয়ায় বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
