ভাদোদরা, ২৫ অক্টোবর: জিম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে ১২১ রানে জয় পেল ভারতের মহিলা ক্রিকেট দল। রবিবার ভাদোদরায় প্রথমে ব্যাট করে ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩২৮ রান তোলে ভারত। জবাবে জিম্বাবোয়ের ইনিংস শেষ হয়ে যায় ৪৮.৫ ওভারে ২০৭ রানে। ভারতের জয়ের নায়ক অধিনায়ক হরমনপ্রীত কৌর ও দীপ্তি শর্মা। দু’জনেই শতরান করেন। বল হাতে বৈষ্ণবী শর্মার চার উইকেট এবং দীপ্তির তিন উইকেট জিম্বাবোয়েকে বড় ব্যবধানে হারাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের এক দিনের আন্তর্জাতিক সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। সিরিজও নিজেদের দখলে রাখা রাখা নিশ্চিত করল তারা।
ব্যাট করতে নেমে শুরুটা অবশ্য ভাল হয়নি ভারতের। দুই ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা ও শেফালি বর্মা দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় শুরুতেই চাপে পড়ে দল। সেই পরিস্থিতিতে ইনিংসের হাল ধরেন প্রতিকা রাওয়াল ও হরমনপ্রীত। তৃতীয় উইকেটে তাঁদের ১২৪ রানের জুটি ভারতকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ করে দেয়। ৬৭ বলে ৬১ রান করেন প্রতিকা। তাঁর ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুটি ছক্কা। অর্ধশতরান করার পর বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি।
প্রতিকার বিদায়ের পর ভারতীয় ইনিংসকে আরও শক্তিশালী করেন হরমনপ্রীত ও দীপ্তি। পঞ্চম উইকেটে তাঁদের ১৫৩ রানের জুটি ম্যাচের ছবিই বদলে দেয়। শুরুতে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া ভারত এই জুটির সৌজন্যে বড় রানের পথে এগিয়ে যায়।
হরমনপ্রীত ১২১ বলে ১২৬ রান করেন। তাঁর ইনিংসে ছিল ১৫টি চার। এটি এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাঁর অষ্টম শতরান। অভিজ্ঞতার পরিচয় দিয়ে শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ইনিংসের দায়িত্ব সামলান ভারতীয় অধিনায়ক। অন্য দিকে, দীপ্তি শর্মা ৮৬ বলে অপরাজিত ১০৬ রান করেন। তাঁর ব্যাট থেকেও এসেছে ১৫টি চার। শেষ পর্যন্ত দ্রুত রান তুলে ভারতকে ৩২৮ রানের শক্তিশালী জায়গায় পৌঁছে দেন তিনি।
দীপ্তির এই শতরানও তৈরি করেছে বিশেষ নজির। এক দিনের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ভারতের হয়ে ছয় নম্বর বা তার পরে ব্যাট করতে নেমে শতরান করা প্রথম মহিলা ক্রিকেটার হলেন তিনি। হরমনপ্রীতের সঙ্গে তাঁর ১৫৩ রানের জুটি পঞ্চম উইকেটে ভারতের মহিলা দলের অন্যতম উল্লেখযোগ্য জুটি হিসেবেও জায়গা করে নিল।
৩২৯ রানের লক্ষ্য নিয়ে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবোয়েও শুরুতে লড়াই করার চেষ্টা করে। ওপেনার মডেস্টার মুপাচিকওয়া ৪৯ রান করেন। অল্পের জন্য অর্ধশতরান হাতছাড়া করেন তিনি। চিপো মুগেরি-তিরিপানো করেন ৪৬ রান। দু’জনের ব্যাটে জিম্বাবোয়ের ইনিংস কিছুটা এগোলেও প্রয়োজনীয় রান তোলার গতি ধরে রাখতে পারেনি তারা।
এর পর নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে জিম্বাবোয়ে। বেলাভড বিজা ৩৪ রান করেন। জোসেফিন এনকোমো ও ন্যাশা গওয়ানজুরা করেন ২০ রান করে। কিন্তু ভারতের বোলারদের সামনে বড় কোনও জুটি গড়ে তুলতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ২০৭ রানেই শেষ হয়ে যায় জিম্বাবোয়ের ইনিংস।
বল হাতে বৈষ্ণবী শর্মা ছিলেন ভারতের সবচেয়ে সফল বোলার। তিনি ৩৯ রান দিয়ে চারটি উইকেট তুলে নেন। দীপ্তি শর্মাও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। ব্যাট হাতে শতরানের পর বল হাতে তিনটি উইকেট নিয়ে দলের জয়ে নিজের ভূমিকা আরও উজ্জ্বল করেন তিনি।
এই ম্যাচে ভারতের ব্যাটিং ও বোলিং— দুই বিভাগেই আধিপত্য দেখা গিয়েছে। শুরুতে দ্রুত উইকেট পড়লেও প্রতিকা ও হরমনপ্রীতের জুটি দলকে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়। তার পর হরমনপ্রীত ও দীপ্তির শতরান ভারতকে বড় স্কোর এনে দেয়। জবাবে জিম্বাবোয়ের ব্যাটারদের বড় জুটি গড়তে না দেওয়ায় জয়ও সহজ হয় ভারতের।
প্রথম ম্যাচে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও দাপট দেখিয়ে ভারত তিন ম্যাচের সিরিজ়ে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল। ফলে শেষ ম্যাচের আগেই সিরিজ় নিশ্চিত হয়ে গেল ভারতীয় মহিলা দলের। হরমনপ্রীত ও দীপ্তির ব্যাটিং এবং বৈষ্ণবীর বোলিং এই জয়ের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হয়ে রইল।
previous post
