31 C
Kolkata
October 22, 2026
কলকাতা

দিলীপের দাবি, চোরবাগান কাণ্ডে দোষীদের শাস্তি হোক

সংবাদ কলকাতা: চোরবাগান দুর্গাপুজো মণ্ডপে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় সঠিক তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তির দাবি জানালেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, কেউ পরিকল্পনা করে সেখানে গিয়ে এই ঘটনা ঘটায়নি, কিন্তু কারও ভুলের কারণে এতগুলি নিরপরাধ মানুষের প্রাণ চলে গিয়েছে। কেন এমন ঘটনা ঘটল, কার কতটা দায় রয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে সামনে আসা প্রয়োজন। এই ঘটনায় গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলকে তিন মাসের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার কথা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

চোরবাগানের ঘটনা নিয়ে দিলীপ বলেন, ‘এতগুলো নিরপরাধ মানুষের প্রাণ গেছে। সব মিলিয়ে তাল কেটে গেছে। তাই তদন্ত হওয়া দরকার। যিনি দায়ী, তাঁর সাজা পাওয়া উচিত। কারা কতটা দায়ী, সেটা তদন্তে প্রমাণ হবে।’ তাঁর মতে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলিতে বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হয়। গঙ্গাসাগর কিংবা কুম্ভমেলার মতো জায়গায় ভক্তি ও আবেগের টানে বহু মানুষ একসঙ্গে হাজির হন। ফলে সামান্য অব্যবস্থাপনাও বড় বিপদের কারণ হয়ে উঠতে পারে।

পালাবদলের পর রাজ্যে প্রথম দুর্গাপুজোয় এমন প্রাণহানির ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দিলীপ বলেন, পুজো বা অন্য কোনও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভিড় সামলানোর দায়িত্ব আয়োজকদের অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে পালন করা উচিত। তাঁর কথায়, জমায়েত যত বড় হবে, আয়োজকদের দায়িত্বও তত বাড়বে। সামান্য ভুলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে চোরবাগানের ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিধানসভায় ফ্লোর টেস্ট হলে বিজেপি ২৭৫, দাবি নিয়ে মন্তব্য
এক্ষুনি বিধানসভায় ফ্লোর টেস্ট হলে বিজেপি ২৭৫টি আসন পাবে—মুখ্যমন্ত্রীর এই দাবি প্রসঙ্গে দিলীপ ঘোষ বলেন, শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভার নেতা। বিধানসভায় কী হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে কী হতে পারে, সে বিষয়ে তাঁর চেয়ে ভালো কেউ জানেন না। শুভেন্দু যদি এমন দাবি করে থাকেন, তা হলে প্রয়োজন হলে তা প্রমাণিত হবে বলেও মন্তব্য করেন দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, এর আগে বিভিন্ন ইস্যুতে ভোটাভুটি হয়েছে এবং তার ফলাফল সকলেই দেখেছেন।

বিসর্জন নিয়ে সনাতনী বিতর্কে দিলীপের বক্তব্য
দুর্গাপ্রতিমার বিসর্জনের সময় ‘সনাতনীরাই প্রতিমার গায়ে হাত দেবেন’—মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য নিয়েও প্রতিক্রিয়া জানান দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, দুর্গাপুজোর অঞ্জলি, সিঁদুরখেলা, প্রতিমা বরণ এবং বিসর্জনের মতো আচার-অনুষ্ঠানে যাঁরা শ্রদ্ধার সঙ্গে অংশ নেন, তাঁরাই এই উৎসবের সঙ্গে যুক্ত। তাই কে সনাতনী আর কে নন, তা নিয়ে বিতর্কের কোনও অর্থ নেই বলে মনে করেন তিনি।

দিলীপের কথায়, বহু মানুষের অংশগ্রহণেই দুর্গাপুজো ও বিজয়া দশমীর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। যাঁরা ভক্তি ও শ্রদ্ধার সঙ্গে পুজো করেন, তাঁরা মায়ের আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নেন, অঞ্জলি দেন এবং সিঁদুরখেলায় সামিল হন। তাঁর মতে, এই বিষয়টি নিয়ে অযথা বিতর্ক না করে উৎসবের ঐতিহ্য ও ধর্মীয় রীতিকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।

বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের শুভেচ্ছা বার্তা নিয়ে কটাক্ষ
বিকাশ রঞ্জন ভট্টাচার্যের ‘শুভ শারদীয়া’ শুভেচ্ছা বার্তা নিয়েও কটাক্ষ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, দুর্গাপুজো শেষ হয়ে যাওয়ার পর ‘শুভ শারদীয়া’ নয়, ‘শুভ বিজয়া’ জানানোই প্রাসঙ্গিক। ধর্মনিরপেক্ষতার নামে দেশের ধর্মীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিকৃত করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, কেউ শুভেচ্ছা না জানালেও কোনও সমস্যা নেই। তবে ধর্মীয় উৎসবের সঙ্গে যুক্ত রীতি ও পরম্পরাকে যথাযথভাবে বোঝা প্রয়োজন।

মালদায় বিজেপি কর্মী খুনে তদন্তের দাবি
দশমীর দিন মালদায় এক বিজেপি কর্মী খুনের ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দিলীপ ঘোষ। ঘটনাটিকে দুঃখজনক ও নৃশংস বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাজ্যে হিংসার ঘটনা কিছুটা কমলেও মানুষের মন থেকে হিংসা সম্পূর্ণ দূর করা কঠিন। রাজনৈতিক কিংবা আর্থিক—বিভিন্ন কারণে হিংসার ঘটনা ঘটতে পারে। তাই শুধু অপরাধের তদন্ত করলেই হবে না, এর পিছনে প্রকৃত কারণ কী, তা-ও খুঁজে বের করা প্রয়োজন। তাঁর মতে, মূল কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের ঘটনা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়।

নির্বাচন পরিচালনায় নির্বাচন কমিশনের প্রশংসা
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে অমিত শাহের প্রশংসা প্রসঙ্গেও নিজের মত জানান দিলীপ। তাঁর বক্তব্য, এবারের বিধানসভা নির্বাচন ছিল অভূতপূর্ব। তাঁর মতে, হিংসাপ্রবণ বলে পরিচিত একটি রাজ্যে এতগুলি দফায় শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচন সম্পন্ন করা এবং ফল ঘোষণা করা সহজ কাজ ছিল না। নির্বাচন কমিশন এই প্রক্রিয়া সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বলে মনে করেন তিনি। তাই কমিশনের প্রশংসা করা উচিত বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি নেতা।

দত্তপুকুরে বিস্ফোরক উদ্ধার নিয়ে উদ্বেগ
দত্তপুকুরে বিস্ফোরক, ডিটোনেটর ও মাইন উদ্ধারের ঘটনা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন দিলীপ ঘোষ। তাঁর দাবি, এই ধরনের বিস্ফোরক সরবরাহের পিছনে একটি চক্র কাজ করছে এবং বিভিন্ন জায়গায় তাদের একাধিক গোষ্ঠী সক্রিয় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই এ ধরনের কার্যকলাপ চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আগে সরকারি ব্যবস্থার নজরে এলেও বিষয়গুলি উপেক্ষা করা হত, কিন্তু এখন সরকার গুরুত্ব দিয়ে পদক্ষেপ করছে।

দিলীপের মতে, পুজো ও দীপাবলির সময়ে বিভিন্ন জায়গায় বাজি ফাটানো হয়। এই পরিস্থিতিতে বিস্ফোরক নিয়ে কোনও অসাধু চক্র সক্রিয় থাকলে বড় দুর্ঘটনা এবং ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তাই পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারি প্রয়োজন। উৎসবের সময়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন যে তৎপরতা দেখাচ্ছে, তা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Related posts

Leave a Comment