নয়াদিল্লি, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ – ডিরেক্টরেট অফ এনফোর্সমেন্ট (ইডি) সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে হাই কোর্টে রিট আবেদন করতে পারে কি না, সেই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্নে ইডিকে নোটিস জারি করল সুপ্রিম কোর্ট।কেরল ও তামিলনাড়ু সরকারের দায়ের করা আবেদনের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালত এই বিষয়টি খতিয়ে দেখবে।বিচারপতি দীপঙ্কর দত্ত ও বিচারপতি সতীশ চন্দ্র শর্মার বেঞ্চ ২০২৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর কেরল হাই কোর্টের একটি রায়কে চ্যালেঞ্জ করে দায়ের হওয়া আবেদনগুলিতে নোটিস জারি করেছে।
উক্ত রায়ে কেরল হাই কোর্ট ইডির ‘লোকাস স্ট্যান্ডি’ স্বীকার করে নিয়ে বলেছিল, সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে হাই কোর্টে রিট দায়ের করার অধিকার ইডির রয়েছে।কেরল ও তামিলনাড়ু সরকারের যুক্তি, ইডি কোনও জুরিস্টিক ব্যক্তি নয় এবং মৌলিক অধিকার প্রয়োগের জন্য নির্ধারিত এই সাংবিধানিক বিধান ব্যবহার করার অধিকার তাদের নেই।অনুচ্ছেদ ২২৬ মূলত নাগরিক ও ব্যক্তিদের মৌলিক অধিকার কার্যকর করার জন্য প্রযোজ্য বলেই রাজ্যগুলির দাবি।এই মামলায় কেরল সরকারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবাল এবং তামিলনাড়ুর পক্ষে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী পি উইলসন ও বিক্রম চৌধুরী।
এই বিতর্কের সূত্রপাত ২০২১ সালের মে মাসে, যখন কেরল সরকার কমিশনস অফ ইনকোয়ারি অ্যাক্ট, ১৯৫২ অনুযায়ী একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করে।কমিশনের উদ্দেশ্য ছিল ইউএই স্বর্ণ চোরাচালান মামলায় মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন ও অন্যান্য রাজ্য আধিকারিকদের জড়ানোর ক্ষেত্রে ইডি ও কাস্টমসসহ কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি ক্ষমতার অপব্যবহার করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা।এই কমিশনের নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ভি কে মোহনন।ইডি এই কমিশন গঠনের বিজ্ঞপ্তি চ্যালেঞ্জ করে কেরল হাই কোর্টে যায় এবং দাবি করে যে, এটি অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, ফেডারেল কাঠামোর পরিপন্থী এবং পিএমএলএ আইনের অধীনে চলমান ফৌজদারি তদন্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে।
২০২১ সালে হাই কোর্টের একক বেঞ্চ কমিশনের কাজ স্থগিত করে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয়।কেরল সরকারের আপিল খারিজ করে ডিভিশন বেঞ্চ সেই নির্দেশ বহাল রাখে এবং ইডির রিট করার অধিকার স্বীকার করে।কেরল সরকারের বক্তব্য ছিল, কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে কোনও বিরোধ হলে তা কেবল সংবিধানের ১৩১ অনুচ্ছেদের অধীনেই সুপ্রিম কোর্টে নিষ্পত্তিযোগ্য।অন্যদিকে ইডির দাবি, পিএমএলএ ও ইউএপিএ-র মতো কেন্দ্রীয় আইনের তদন্ত কেন্দ্রের অধিক্ষেত্রের মধ্যেই পড়ে।সুপ্রিম কোর্টে তামিলনাড়ু আরও জানায়, এই রায় বহাল থাকলে একটি খনন সংক্রান্ত মামলায় রাজ্যের বিরুদ্ধে ইডির রিট আবেদনের উপরও প্রভাব পড়বে।তামিলনাড়ুর মতে, ইডি অর্থমন্ত্রকের অধীন একটি বিভাগ মাত্র, কোনও স্বতন্ত্র আইনগত সত্তা নয়।
আবেদনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, ইডি সংবিধানের তৃতীয় ভাগে বর্ণিত কোনও মৌলিক অধিকার প্রয়োগের দাবিদার নয় এবং তাই ২২৬ অনুচ্ছেদের অধীনে রিট করার অধিকারও তাদের নেই।এই প্রশ্নের ব্যাপক প্রভাব রয়েছে, কারণ একই সঙ্গে সুপ্রিম কোর্টে অনুচ্ছেদ ৩২-এর অধীনে ইডির একটি আবেদন বিচারাধীন রয়েছে, যেখানে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সিবিআই মামলা দায়েরের দাবি করা হয়েছে।সেই মামলায়ও রাজ্য সরকার আবেদনটির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আপত্তি তুলেছে।এখন সুপ্রিম কোর্টই নির্ধারণ করবে, ইডি আদৌ সংবিধানের ২২৬ অনুচ্ছেদের আশ্রয় নিতে পারে কি না।
