নয়াদিল্লি, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ – টিভি অভিনেতা আশিস কাপুরের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি উচ্চপ্রোফাইল গণধর্ষণ মামলার বিচার প্রক্রিয়ার জন্য দিল্লির তিস হাজারি আদালত মামলাটি সেশনস কোর্টে পাঠিয়েছে। পুলিশি চার্জশিট খতিয়ে দেখার পর এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।২০২৫ সালের ১১ আগস্ট দিল্লির সিভিল লাইনস থানায় এই মামলার এফআইআর দায়ের হয়।
অভিযোগকারিণী জানান, তিনি আশিস কাপুরের এলাকার একটি পার্টিতে যোগ দিয়েছিলেন, যেখানে প্রথমবার অভিনেতা ও তাঁর কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে পরিচয় হয়।অভিযোগ অনুযায়ী, পার্টির সময় তাঁকে একটি পানীয় দেওয়া হয়, যাতে কোনও অজানা পদার্থ মেশানো ছিল। পানীয়টি গ্রহণের পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। এরপর তাঁকে জোর করে একটি ওয়াশরুমে নিয়ে গিয়ে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ।এই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ধর্ষণ, গণধর্ষণ ও শারীরিক আঘাত সংক্রান্ত ধারায় মামলা রুজু করে।দিল্লি পুলিশ তদন্ত শেষ করে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে চার্জশিট দাখিল করে।
চার্জশিটে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৬৪(১) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়, যা ধর্ষণ সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে যুক্ত।এই মামলায় আশিস কাপুর ছাড়াও কপিল গুপ্ত ও রিতু গুপ্ত নামে আরও দু’জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে তিন অভিযুক্তই জামিনে রয়েছেন।চার্জশিট ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস কার্তিক তাপারিয়া মামলাটি সেশনস কোর্টে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ১৫ জানুয়ারি এই নির্দেশ জারি হয়।আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, ৬৪(১) ধারার অপরাধ শুধুমাত্র সেশনস কোর্টেই বিচারযোগ্য। সেই অনুযায়ী, মামলাটি ২২ জানুয়ারি ২০২৬ দুপুর ২টায় প্রিন্সিপাল ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেশনস জজের আদালতে উপস্থাপনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি কৌঁসুলিকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, গত ১০ সেপ্টেম্বর আশিস কাপুরকে জামিন দেওয়ার সময় আদালত তদন্তে গাফিলতির বিষয়টি উল্লেখ করেছিল।
আদালত জানায়, পুলিশ হেফাজতে নেওয়া সত্ত্বেও অভিযুক্তের মোবাইল ফোন উদ্ধার করার জন্য তেমন কোনও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।আইনি অনুসন্ধান ও তল্লাশির ক্ষেত্রেও ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়। একইসঙ্গে আদালত পর্যবেক্ষণ করে যে, তদন্তে আশিস কাপুর অসহযোগিতা করেছেন, এমন কোনও প্রমাণ নথিতে নেই।অভিযুক্তের আইনজীবী দীপক শর্মা আদালতে দাবি করেন, অভিযোগগুলি সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং আর্থিক সুবিধা আদায়ের উদ্দেশ্যেই এই মামলা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, অভিযোগকারিণী এর আগেও একই বছরে জনকপুরী থানায় তাঁর বাড়িওয়ালার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেছিলেন।
প্রসঙ্গত, আশিস কাপুরকে ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর মহারাষ্ট্রের পুনে থেকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের ফলে তাঁর অন্তর্বর্তীকালীন সুরক্ষার আবেদন অপ্রাসঙ্গিক হয়ে যায়।
