বাংলাদেশের Chapainawabganj জেলার একটি গ্রামে মসজিদ কমিটির জারি করা ‘ফরমান’ ঘিরে শুরু হয়েছে বিতর্ক। গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানোকে ‘হারাম’ ঘোষণা করে সেই বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছিল স্থানীয় মসজিদ কমিটি।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যম Prothom Alo-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাঁপাইনবাবগঞ্জের তেররশিয়া পোড়াগ্রাম এলাকায় কয়েক মাস আগে এই বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। বিজ্ঞপ্তির শিরোনাম ছিল— “গানবাজনা বা বাদ্যযন্ত্রমুক্ত সমাজ গঠনের সিদ্ধান্ত।”
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, গ্রামের সামাজিক কল্যাণের স্বার্থে প্রকাশ্যে উচ্চস্বরে গানবাজনা বা বাদ্যযন্ত্র বাজানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এমনকি কোনও বিয়েবাড়িতে গানবাজনা হলে সেখানে বিয়ে পড়াতে যাবেন না স্থানীয় আলেমরাও— এমন সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছিল।
এই নির্দেশিকা প্রচারের জন্য এলাকায় ব্যানার, ফেস্টুন ও পোস্টারও টাঙানো হয়। এরপর থেকেই গ্রামে কার্যত গানবাজনা বন্ধ হয়ে যায় বলে জানা গেছে।
তবে এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে গ্রামবাসীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। গ্রামের প্রবীণদের একাংশ এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করলেও তরুণ প্রজন্মের অনেকেই তাতে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
সম্প্রতি বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন। পুলিশ গ্রামে অভিযান চালিয়ে এই সংক্রান্ত পোস্টার, ব্যানার ও বিজ্ঞপ্তি বাজেয়াপ্ত করে থানায় নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে প্রশাসনের ডাকে মসজিদ কমিটির সদস্যরা বৈঠকে হাজির হন। সংবাদমাধ্যমের দাবি, সেখানে তাঁরা নিজেদের ভুল স্বীকার করেছেন। কমিটির সদস্যদের বক্তব্য, বিষয়টি না বুঝেই গানবাজনার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। এর জন্য তাঁরা ক্ষমাও চেয়েছেন।
এছাড়া সভা করে ওই বিজ্ঞপ্তি প্রত্যাহার করা হবে বলেও জানিয়েছেন মসজিদ কমিটির সদস্যরা।
গ্রামের একাধিক বাসিন্দার বক্তব্য, বিয়েবাড়ির আনন্দের সঙ্গে গানবাজনা জড়িয়ে থাকে। তাই সেটিকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা বাস্তবসম্মত নয় বলেই মত অনেকের।
