বিধানসভা ভোটের আগে Arambagh মহকুমা জুড়ে শুরু হয়েছে এক অদ্ভুত রহস্য। রাতের অন্ধকারে কে বা কারা বিভিন্ন জায়গায় বিতর্কিত পোস্টার সাঁটিয়ে যাচ্ছে। কখনও শাসকদলের নেতারা, কখনও আবার বিরোধী দলের নেতারা সেই পোস্টারের নিশানায় থাকছেন। কিন্তু পোস্টারের নেপথ্যে কারা রয়েছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি।
গত ৪ মার্চ Goghat-এর বিজেপি বিধায়ক Bishwanath Karak-এর বিরুদ্ধে তাঁর নিজের গ্রাম শাওড়ায় একাধিক পোস্টার দেখা যায়। সেখানে লেখা ছিল— “সময়ে সময়ে রং বদলায়, স্বার্থে দল বদলায়”। পোস্টারে তাঁকে ‘গিরগিটি বিধায়ক’ বলেও কটাক্ষ করা হয়।
ভারতের মুদ্রণ আইনে যে কোনও পোস্টারে প্রকাশকের নাম উল্লেখ করা বাধ্যতামূলক হলেও এই পোস্টারগুলিতে কোনও প্রকাশকের নাম ছিল না। ফলে কে বা কারা এই প্রচার চালাচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্বনাথ কারকের অভিযোগ, ভোটের আগে তাঁকে বদনাম করতেই এই কাজ করছে তৃণমূল।
এর আগে ২৪ ফেব্রুয়ারি Tarakeswar-এর তৃণমূল বিধায়ক Ramendu Singha Roy-এর বিরুদ্ধেও একই ধরনের পোস্টার পড়েছিল। সেখানে তাঁকে ‘তোলাবাজ, বালিচোর ও দুশ্চরিত্র’ বলে উল্লেখ করা হয়।
আবার ১৪ ফেব্রুয়ারি Khanakul-এর বিজেপি বিধায়ক Sushanta Ghosh-এর বিরুদ্ধে পোস্টার ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাঁকে কটাক্ষ করে ‘বিজেপির লম্পট রাজা’ বলা হয় এবং একটি বিতর্কিত ছবিও ব্যবহার করা হয়েছিল (ছবিটির সত্যতা যাচাই করা হয়নি)। একই দিনে Pursurah-এর বিজেপি বিধায়ক Biman Ghosh-এর বিরুদ্ধেও পোস্টার পড়ে।
রাজনৈতিক নেতাদের পাশাপাশি আলুর দাম নিয়েও হাতে লেখা পোস্টার পড়েছে আরামবাগে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, সরকারকে আলুর দাম কমপক্ষে ৬০০ টাকা বস্তা ঘোষণা করতে হবে। কৃষক সমিতির নাম ব্যবহার করে এই পোস্টার লাগানো হয়েছে বলে দাবি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভোটের আগে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতেই এই ধরনের কৌশল নেওয়া হচ্ছে। সরাসরি অভিযোগ করলে আইনি জটিলতা হতে পারে, তাই পোস্টারের মাধ্যমে বিতর্কিত বিষয় তুলে ধরা হচ্ছে।
এক তৃণমূল নেতার কথায়, “কার বিরুদ্ধে কখন পোস্টার পড়বে, তার কোনও ঠিক নেই। পোস্টার পড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেগুলি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যাচ্ছে। এতে নেতাদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
অন্যদিকে বিজেপির আরামবাগ সাংগঠনিক জেলা সভাপতি Sushanta Bera বলেন, “এ সব বিজেপির সংস্কৃতি নয়। পুলিশ ঠিক মতো তদন্ত করলে সব সত্য সামনে আসবে।”
তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক Swapan Nandi পাল্টা দাবি করেছেন, বিজেপির নেতারাই টিকিটের লড়াইয়ে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি করছেন এবং তার দায় তৃণমূলের উপর চাপাচ্ছেন।
