সংবাদ কলকাতা: জমি দখল করে বেআইনি নির্মাণের অভিযোগের মামলায় নির্মাণ ব্যবসায়ী অমিত গঙ্গোপাধ্যায়কে গ্রেপ্তার করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। মঙ্গলবার তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছিল। তদন্তে সহযোগিতা না করার অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে ইডি সূত্রে জানা গিয়েছে।
দক্ষিণ কলকাতার বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল করে আবাসন তৈরির অভিযোগ রয়েছে অমিতের সংস্থার বিরুদ্ধে। ২০২৩ সালে জমি দখল, প্রতারণা এবং ভুয়ো নথি ব্যবহারের অভিযোগে অমিতের বিরুদ্ধে দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ রাজ্যের একাধিক থানায় ২০টি এফআইআর দায়ের হয়েছিল বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে।
পুলিশের দায়ের করা ওই এফআইআরগুলির ভিত্তিতে পরে পৃথক মামলা করে তদন্ত শুরু করে ইডি। মামলার তদন্তে জমি সংক্রান্ত নথি, আর্থিক লেনদেন এবং আবাসন তৈরির ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণের পদ্ধতি নিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
এই মামলায় বিধানসভা ভোটের আগে মার্চ মাসে একাধিক জায়গায় তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। তল্লাশির সময় বিভিন্ন নথি ও তথ্যের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থার আধিকারিকদের ফোন থেকেও কিছু তথ্য পাওয়া গিয়েছিল বলে তদন্তকারী সংস্থা সূত্রে জানা যায়।
সেই সূত্র ধরেই প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারকেও একাধিক বার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডেকেছিল ইডি। বিধানসভা নির্বাচনের আগে এপ্রিল মাসের ১, ৩ এবং ৯ তারিখে তাঁকে সিজিও কমপ্লেক্সে তলব করা হয়েছিল। প্রতিবারই দীর্ঘ সময় ধরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন তদন্তকারী আধিকারিকেরা বলে জানা যায়।
শুধু জিজ্ঞাসাবাদেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ ছিল না। দেবাশিস কুমারের বাড়ি এবং অফিসেও তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল ইডি। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই তাঁকে বার বার জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি।
অমিত গঙ্গোপাধ্যায় প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক দেবাশিস কুমারের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত। তবে তাঁদের সম্পর্কের প্রকৃতি এবং তার সঙ্গে জমি সংক্রান্ত মামলার কোনও প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে কি না, তা তদন্তের বিষয়।
ইডির তদন্তে এখন অমিতের সংস্থার জমি সংক্রান্ত লেনদেন, নির্মাণ প্রকল্প এবং আর্থিক গতিপথ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে মামলায় উঠে আসা অন্যান্য ব্যক্তি ও সংস্থার ভূমিকার বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। অমিতের গ্রেপ্তারের পরে তদন্ত কোন দিকে এগোয় এবং মামলায় আরও কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ বা গ্রেপ্তার করা হয় কি না, সে দিকে নজর রয়েছে।
