নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা—রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পর প্রথম বার ঠাকুরনগরের মতুয়া ঠাকুরবাড়িতে গেলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর আপ্যায়নে যাতে কোনও খামতি না থাকে, তার জন্য সকাল থেকেই ব্যস্ত ছিলেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী তথা বাগদার বিধায়ক শান্তনু ঠাকুরের স্ত্রী সোমা ঠাকুর। বাড়ির গৃহকর্ত্রী হিসেবে অতিথির জন্য নিজের হাতেই তৈরি করলেন একাধিক পদ। মাছ, মাংস থেকে শুরু করে মিষ্টি, দই— বাদ গেল না কিছুই। তবে এত আয়োজনের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর সবচেয়ে বেশি পছন্দ হল ঠাকুরবাড়ির বিশেষ পদ চিংড়ি পিঠে।
রবিবার দুপুরে শান্তনু ঠাকুরের বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রীর জন্য। সেই আয়োজন সামলাতে ভোর সাড়ে ৫টা থেকেই রান্নাঘরে ঢুকে পড়েন সোমা। ঠাকুরবাড়ির কর্মীরা বাজার করে আনলেও কোন পদে কী কী উপকরণ লাগবে, তা আগেই ঠিক করে দিয়েছিলেন তিনি। রান্নার বেশির ভাগটাই নিজের হাতে করেন বলে জানিয়েছেন সোমা।
মুখ্যমন্ত্রীর জন্য সাজানো হয়েছিল বেশ লম্বা খাবারের তালিকা। সেখানে ছিল মৌরলা মাছ, ইলিশ ভাজা ও ভাপা, পমফ্রেট ভাজা, চিংড়ি-মোচার ঘণ্ট এবং চিংড়ির মালাইকারি। মাছের পাশাপাশি ছিল খাসির মাংস ও দেশি মুরগির মাংস। নিরামিষ পদ হিসেবে রাখা হয়েছিল সব্জি ডাল, বেগুন ভাজা ও উচ্ছে ভাজা। শেষ পাতে ছিল মিষ্টি, দই এবং ছানার পায়েস। তবে এই সব পদের মধ্যে বিশেষ আকর্ষণ ছিল ঠাকুরবাড়ির নিজস্ব রান্না চিংড়ি পিঠে।
সোমার কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রান্নার পরিকল্পনা করার সময়ই তিনি চিংড়ি পিঠের কথা ভেবেছিলেন। কিন্তু সেই পদই শুভেন্দুর এতটা পছন্দ হবে, তা তিনি ভাবতে পারেননি। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী চিংড়ি পিঠে বেশ আগ্রহ নিয়ে খেয়েছেন। কী ভাবে এই পদ তৈরি করা হয়, তা নিয়েও সোমার কাছে বিস্তারিত জানতে চান তিনি।

চিংড়ি পিঠে ছাড়াও মৌরলা মাছের রান্না, ইলিশ ভাজা, ডাল, উচ্ছে ভাজা এবং বেগুন ভাজা খেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সোমা জানিয়েছেন, তাঁর তৈরি মৌরলা মাছের পদও শুভেন্দুর পছন্দ হয়েছে। শান্তনু ঠাকুরের সংযোজন, মুখ্যমন্ত্রী সব পদই চেখে দেখেছেন।
নিজের হাতে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য রান্না করতে পেরে খুশি সোমা। অন্য দিকে, তাঁর আতিথেয়তায় আপ্লুত হওয়ার কথা জানিয়েছেন শুভেন্দুও। সোমার হাতে তৈরি খাবারকে নিজের কাছে ‘পরম প্রাপ্তি’ বলে উল্লেখ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। ফলে ঠাকুরনগরে রাজনৈতিক কর্মসূচির পাশাপাশি রবিবারের আলোচনায় জায়গা করে নিল ঠাকুরবাড়ির বিশেষ চিংড়ি পিঠে এবং সোমা ঠাকুরের রান্নার আয়োজন।
