31 C
Kolkata
October 22, 2026
রাজ্য

চোরবাগান বিপর্যয়: মণ্ডপের থ্রিডি স্ক্যান করল ফরেনসিক দল

সংবাদ কলকাতা: চোরবাগান সর্বজনীনের মণ্ডপে কী ভাবে বিপর্যয় ঘটল, তা জানতে তদন্ত আরও জোরদার করল কলকাতা পুলিশ। মণ্ডপের নকশা, সাজসজ্জা, প্রবেশ ও প্রস্থানের পথের প্রস্থ এবং দর্শনার্থীদের চলাচলের ব্যবস্থা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। বৃহস্পতিবার ফের ঘটনাস্থলে যায় কলকাতা পুলিশের বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট)। পাশাপাশি, ফরেনসিক বিভাগের সদস্যেরাও মণ্ডপ ও আশপাশের এলাকা ঘুরে দেখেন। গোটা এলাকার ছবি থ্রিডি ক্যামেরায় তুলে রাখা হয়, যাতে পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থলের বিন্যাস বিশ্লেষণ করা যায়।

চোরবাগান বিপর্যয়ের তদন্তে কলকাতা পুলিশ ছ’সদস্যের একটি সিট গঠন করেছে। গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে তদন্ত চলছে। এর আগেও তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ খতিয়ে দেখার পাশাপাশি, ঘটনার সময় মণ্ডপে উপস্থিত সিভিক ভলান্টিয়ার ও ক্লাব সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তাঁদের বক্তব্য এবং অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে বিপর্যয়ের সময়কার ঘটনাক্রম পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন তদন্তকারীরা।

প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণের পর বুধবারও ঘটনাস্থলে গিয়েছিল সিট। তার পর বৃহস্পতিবার ফের মণ্ডপ পরিদর্শন করা হয়। মণ্ডপের ভিতরে ও বাইরে দর্শনার্থীদের চলাচলের জায়গা কতটা ছিল, কোথায় ভিড় জমেছিল এবং বেরোনোর পথে কোনও বাধা তৈরি হয়েছিল কি না— এই বিষয়গুলিই তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।

ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের থ্রিডি স্ক্যানের সিদ্ধান্তও তাৎপর্যপূর্ণ। সূত্রের খবর, দীর্ঘদিন ঘটনাস্থলে মণ্ডপটি রাখা সম্ভব নয়। ফলে মণ্ডপ ভেঙে ফেলার আগে প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ এবং তার গঠন ও বিন্যাসের বিস্তারিত নথি তৈরি করা জরুরি। থ্রিডি স্ক্যানের মাধ্যমে মণ্ডপের ত্রিমাত্রিক ছবি সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে মণ্ডপের কাঠামো, চলাচলের পথ এবং দুর্ঘটনার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়ার চেষ্টা করা হবে।



তদন্তকারীদের নজরে রয়েছে সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ভিডিয়োও। একটি ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে, গ্রিল দিয়ে ঘেরা ঘোরানো পথের উপর কয়েক জন দর্শনার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অন্য একটি ভিডিয়োয় মণ্ডপের বাইরে যাওয়ার গেট থেকে কিছুটা ভিতরে প্রবল ঠেলাঠেলি ও ধাক্কাধাক্কির ছবি দেখা গিয়েছে। আতঙ্কের মধ্যে কয়েক জনকে মাটিতে পড়ে থাকতে এবং অন্যদের চিৎকার করতে দেখা যায় বলে দাবি। তবে ভিডিয়োগুলির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। তদন্তকারীরা সেগুলি খতিয়ে দেখে ঘটনার সময়কার পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করছেন।

এই ঘটনায় পুজো কমিটির দুই পদাধিকারী-সহ মোট সাত জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে বিপর্যয়ের প্রকৃত কারণ এবং কারও গাফিলতি ছিল কি না, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। মণ্ডপের নকশা থেকে শুরু করে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা এবং আতঙ্ক ছড়ানোর কারণ— সব দিক খতিয়ে দেখেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে চাইছে তদন্তকারী দল।

Related posts

Leave a Comment