31 C
Kolkata
October 22, 2026
দেশ

দাউদকে খুঁজছে ভারত, রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্ট সংশোধনের দাবি

‘লাদেন যেখানে ছিলেন, সেখানে রয়েছেন দাউদ’

সংবাদ কলকাতা: গ্যাংস্টার দাউদ ইব্রাহিম এবং তাঁর কুখ্যাত ডি-কোম্পানির সঙ্গে ভারতের যোগসূত্র নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের একটি রিপোর্টের বক্তব্যে আপত্তি জানাল ভারত। রিপোর্টে ডি-কোম্পানির ঘাঁটি হিসেবে ভারতের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। সেই অংশের তথ্যগত অসংগতি তুলে ধরে রিপোর্ট সংশোধনের দাবি জানিয়েছে নয়াদিল্লি। ভারতের বক্তব্য, দাউদ ইব্রাহিমকে খুঁজছে ভারতও। অন্যদিকে, রাষ্ট্রপুঞ্জের তালিকায় দাউদের অবস্থান হিসেবে পাকিস্তানের উল্লেখ রয়েছে।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের তৃতীয় কমিটিতে বুধবার, ২১ অক্টোবর এই আপত্তি জানান রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধিদলের ফার্স্ট সেক্রেটারি রঘু পুরী। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলার ক্ষেত্রে মানবাধিকার রক্ষা নিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষ প্রতিবেদক বেন সাওলের তৈরি রিপোর্টে ডি-কোম্পানিকে ‘ভারতভিত্তিক’ অপরাধী গোষ্ঠী হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছিল। ভারতের বক্তব্য, এই বর্ণনা বিভ্রান্তিকর এবং এতে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়েছে।

রঘু পুরী বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ২০০৩ সালে ডি-কোম্পানির নেতাকে আল-কায়দার সঙ্গে যোগসূত্রের কারণে অন্তর্ভুক্ত করার কথা রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু দাউদ ইব্রাহিম ১৯৯৩ সালের সন্ত্রাসবাদী হামলার ঘটনায় ভারতে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত ও পলাতক, সেই তথ্য যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়নি। তাঁর মতে, এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ পড়ায় রিপোর্টের বক্তব্য থেকে প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে ভুল ধারণা তৈরি হতে পারে।

ভারতীয় কূটনীতিক আরও জানান, ২০০৩ সালে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম ওঠার অনেক আগেই দাউদ ভারত ছেড়ে পালিয়েছিলেন। বর্তমানে তিনি ভারতের কাছে পলাতক অপরাধী। রাষ্ট্রপুঞ্জের তালিকায় তাঁর অবস্থান সম্পর্কেও পাকিস্তানের দিকে ইঙ্গিত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন পুরী। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপুঞ্জের বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে তথ্যগত ভুল থাকলে তার দায় স্বীকার করা এবং সংশোধন করা জরুরি। এ ধরনের ভুল আন্তর্জাতিক সংস্থার বিশ্বাসযোগ্যতাকেও ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

উল্লেখ্য, ডি-কোম্পানির নেতা দাউদ ইব্রাহিম ১৯৯৩ সালের মুম্বই ধারাবাহিক বিস্ফোরণ-সহ একাধিক সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের ঘটনায় ভারতের কাছে দীর্ঘদিন ধরে অভিযুক্ত। তাঁর অবস্থান নিয়ে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বহু বছর ধরেই অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের রিপোর্টে ডি-কোম্পানিকে ভারতভিত্তিক বলা এবং তার বিরোধিতা করে ভারতের বক্তব্য পেশ—এই দুইয়ের জেরে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিষয়টি ফের আলোচনায় উঠে এল। তবে ভারতের আপত্তি জানানোর অর্থ এই নয় যে রিপোর্টটি ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধন করা হয়েছে।

Related posts

Leave a Comment