সংবাদ কলকাতা— কলকাতার চোরবাগানে ঠাকুর দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে বিশেষ তদন্তকারী দল (সিট) গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। অন্য দিকে, দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে কলকাতা-সহ চার শহরে বাড়তি সতর্কতা নিচ্ছে রাজ্য সরকার। বিসর্জন তদারকির জন্য ১৮ জন আইপিএস আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদিকে, সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ শেষ হওয়াকে কেন্দ্র করে নতুন করে আইনি তৎপরতা শুরু হয়েছে। তাঁদের মুক্তির আবেদন জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিজেপি।
চোরবাগানের ঘটনায় ছ’জন গ্রেপ্তার, তদন্তে ছয় সদস্যের সিট
চোরবাগানে ঠাকুর দেখার সময় পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের জন্য ছয় সদস্যের সিট গঠন করেছে কলকাতা পুলিশ। গোয়েন্দা বিভাগের সহকারী কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিকের নেতৃত্বে এই তদন্তকারী দল কাজ করবে। দলে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের হোমিসাইড শাখা এবং গুন্ডাদমন শাখার আধিকারিকেরা।
ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ছ’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গিরিশ পার্ক থানায় কলকাতা পুলিশের স্বতঃপ্রণোদিত মামলার ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। ঘটনার নেপথ্যে কী পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, কীভাবে এত মানুষের মৃত্যু হল এবং এই ঘটনায় কারও গাফিলতি ছিল কি না, তদন্তে সেই বিষয়গুলি খতিয়ে দেখা হতে পারে।
এদিকে, কলকাতা হাই কোর্ট অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠনের কথা বলেছে। ফলে পুলিশের সিটের তদন্তের পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় নির্দেশে কমিশন গঠনের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রকৃত কারণ খুঁজে বের করা এবং দায় নির্ধারণের দিকে এখন নজর রয়েছে।
দশমীর বিসর্জনে চার শহরে ১৮ আইপিএস
দশমীতে প্রতিমা বিসর্জন নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে তৎপর রাজ্য সরকার। কলকাতা, হাওড়া, চন্দননগর এবং ব্যারাকপুরে বিসর্জন ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। চার শহরে বিসর্জন প্রক্রিয়া তদারকির জন্য মোট ১৮ জন আইপিএস আধিকারিককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১২ জনই কলকাতায় থাকবেন।
২১ থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত বিসর্জন সামলানোর দায়িত্বে থাকবেন ওই আধিকারিকেরা। বিসর্জনের সময় ঘাটে ভিড় নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচল সামলানো এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তাঁদের নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ হবে। উৎসবের শেষ পর্বে যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই এই বাড়তি সতর্কতা বলে মনে করা হচ্ছে।
চোরবাগানের মর্মান্তিক ঘটনার পর জনসমাগম ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টি আরও গুরুত্ব পাচ্ছে। তাই বিসর্জনের সময় পুলিশি নজরদারি এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
সিজেপি নেতাদের হেফাজত শেষ, মুক্তির আবেদন দিল্লি হাই কোর্টে
অন্য দিকে, সিজেপি নেতা আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে বুধবার। এর আগে স্পেশাল এগজিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট তাঁদের হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন। সেই মেয়াদ শেষ হওয়ায় বুধবার ফের তাঁদের বিচারকের সামনে হাজির করানো হবে। বর্তমানে দু’জনই তিহাড় জেলে রয়েছেন।
দুই নেতার মুক্তির আবেদন জানিয়ে দিল্লি হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে সিজেপি। পাশাপাশি, তাঁদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতের মেয়াদ দু’দিন বাড়ানোর নির্দেশকেও চ্যালেঞ্জ করেছে দলটি। ফলে আদালতে তাঁদের হেফাজত নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, সেদিকে নজর থাকবে।
এক দিকে চোরবাগানের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত, অন্য দিকে উৎসবের শেষ পর্বে বিসর্জনের নিরাপত্তা এবং সিজেপি নেতাদের হেফাজত নিয়ে আইনি লড়াই— তিনটি বিষয়েই প্রশাসনিক ও বিচারবিভাগীয় পদক্ষেপ এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
