29 C
Kolkata
October 19, 2026
রাজ্য

পুজোর মঞ্চে বামেদের নিশানা শুভেন্দুর, বুকস্টল ভাঙচুর ঘিরে বিতর্ক

সংবাদ কলকাতা— দুর্গাপুজোকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বামপন্থীদের বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। কোথাও বুকস্টলে হামলা, কোথাও আগুন লাগানোর অভিযোগ সামনে আসায় রাজ্যের বিজেপি সরকারকে নিশানা করেছে সিপিএম-সহ বিরোধী দলগুলি। এই পরিস্থিতিতে নিজের পাড়ার পুজোয় গিয়ে বামপন্থীদের বিরুদ্ধে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কে কটাক্ষ করে কমিউনিস্ট ও বিরোধীদের সম্পর্কে সতর্ক থাকার বার্তাও দিয়েছেন তিনি।

সোমবার কাঁথির নান্দনিক ক্লাবে পুজো দিতে যান মুখ্যমন্ত্রী। পুজো শেষে তিনি জানান, দেবী দুর্গার কাছে রাজ্যবাসীর মঙ্গল কামনা করেছেন। পাশাপাশি উত্তর কলকাতার চোরবাগান সর্বজনীনে পদপিষ্ট হয়ে ১৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখপ্রকাশ করেন। এই ঘটনায় সকলের সহযোগিতাও চান তিনি। তবে পুজোর মণ্ডপ থেকে বেরিয়ে তাঁর বক্তব্যের বড় অংশ জুড়েই ছিল বামপন্থীদের সমালোচনা।

নিজের কপালের টিকা এবং হাতে বাঁধা ডোর দেখিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘আমি কমিউনিস্ট নই, আমি নাস্তিক নই। আমি জামাতিও নই। আমি হিন্দু বাড়ির ছেলে। আমি সনাতনী। প্রত্যেক বছর পুজো করি। ৫৬ বছর ধরে এই পুজো হচ্ছে। আমি ৫০ বছর ধরে করছি। এটা সনাতন হিসেবে আমার কর্তব্য। এটা আমার আস্থার বিষয়, ব্যক্তিগত বিষয়। এর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বা অন্য কোনও সম্পর্ক নেই।’



বামপন্থীদের ধর্মাচরণ নিয়ে কটাক্ষ করে তিনি আরও বলেন, ‘কমিউনিস্টেরা পুষ্পাঞ্জলি দেয় না। চরণামৃত খায় না। হাতে ডোর লাগায় না। কপালে টিকা দেয় না। এদের থেকে সাবধান থাকবেন।’ বিরোধীদের উদ্দেশে ‘আরশোলা’ ও ‘ছারপোকা’ বলেও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর অভিযোগ, এরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে। যদিও তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

দুর্গাপুজোয় বুকস্টল ঘিরে বিতর্কের সূত্রপাত অবশ্য পুজোর আগেই। প্রতি বছর বিভিন্ন পুজোমণ্ডপের আশপাশে বইয়ের স্টল করেন বামপন্থীরা। এ বার সেই স্টল নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য ছিল, পুজোর স্টলে ‘শারদোৎসব’-এর বদলে ‘দুর্গাপুজো’ লেখা না হলে স্টল করতে দেওয়া উচিত নয়। এর পরেই সিপিএমের অভিযোগ, এই বক্তব্যের জেরেই বিভিন্ন জায়গায় তাদের বুকস্টলে হামলা চালানো হচ্ছে। কোথাও নিয়মের অজুহাতে স্টল বন্ধ করার চেষ্টা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে নির্দিষ্ট ঘটনার তদন্ত ও প্রমাণের ভিত্তিতেই দায় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।



অন্য দিকে, নিটের প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের পর আন্দোলন এবং দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে রাস্তায় নামা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’কেও কটাক্ষ করেছেন শুভেন্দু। কমিউনিস্টদের সঙ্গে এই গোষ্ঠীকে এক বন্ধনীতে রেখে সতর্ক থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর পাড়ার ক্লাব নান্দনিকের পুজোর এ বারের থিমেও রয়েছে ইতিহাস ও দেশাত্মবোধের ছোঁয়া। ক্লাবের ৪৭তম বর্ষে ‘পুণ্যভূমি মেদিনীপুরের বীরগাথা’ থিমে অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলার স্বাধীনতা আন্দোলনের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরা হয়েছে।

দুর্গাপুজোর আবহে ধর্মীয় পরিচয়, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগ— সব মিলিয়ে রাজ্যের রাজনৈতিক তরজা আরও জোরালো হয়েছে। এখন নজর, বিভিন্ন জায়গায় বুকস্টল ভাঙচুরের অভিযোগে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করে এবং এই বিতর্কে শাসক ও বিরোধী শিবিরের অবস্থান কোন দিকে এগোয়।

Related posts

Leave a Comment