দিল্লি: ২০২৭ সালের জনগণনা প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করতে ১৯৯০ সালের জনগণনা বিধিতে বড়সড় সংশোধন আনল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি স্কুলের শিক্ষকদের পাশাপাশি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদেরও গণনাকারী হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলি। জনগণনার কাজে কর্মী নিয়োগের পরিধি বাড়াতেই এই পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংশোধন সংক্রান্ত গেজেট বিজ্ঞপ্তি জারি করেছেন ভারতের রেজিস্ট্রার জেনারেল মৃত্যুঞ্জয় কুমার নারায়ণ। নতুন নিয়মে শুধু শিক্ষক নন, বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীদেরও জনগণনার কাজে নিয়োগের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
আগের বিধিতে শিক্ষক, করণিক বা অন্য আধিকারিক ও ব্যক্তিদের জনগণনা আধিকারিক হিসেবে নিয়োগের কথা বলা হয়েছিল। সংশোধিত বিধিতে সেই পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। সরকারি, স্থানীয় প্রশাসনের অধীন, সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত এবং বেসরকারি সংস্থা, সমিতি বা ট্রাস্ট পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিয়োগ করা যাবে। পাশাপাশি কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের দপ্তর, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা, সাংবিধানিক সংস্থা, ব্যাঙ্ক, কোম্পানি এবং ট্রাস্টের করণিক ও কর্মীদেরও এই কাজে ব্যবহার করা যাবে। প্রয়োজন মনে করলে রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের প্রশাসন অন্য ব্যক্তিকেও জনগণনা আধিকারিক হিসেবে নিয়োগ করতে পারবে।
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের পিছনে সাম্প্রতিক আইনি জটিলতার প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। হরিয়ানা প্রোগ্রেসিভ স্কুলস কনফারেন্স বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের জনগণনার কাজে নিয়োগের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাই কোর্টে মামলা দায়ের করেছিল। আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিল, ১৯৪৮ সালের জনগণনা আইন বা তার অধীনে তৈরি বিধিতে বেসরকারি স্কুলের শিক্ষকদের গণনাকারী কিংবা তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার স্পষ্ট আইনি ভিত্তি নেই।
গত ৮ অক্টোবর বিচারপতি হরপ্রীত সিং ব্রার এই সংক্রান্ত হরিয়ানা সরকারের দুটি চিঠির উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ দেন। মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য হয়েছে ২০২৭ সালের ২৯ এপ্রিল। এই পরিস্থিতিতে বিধি সংশোধন করে কেন্দ্র নিয়োগের আইনি কাঠামো আরও স্পষ্ট করার পথে এগোল বলে মনে করা হচ্ছে।
স্বাধীনতার পর এটি দেশের অষ্টম জনগণনা হতে চলেছে। কোভিড অতিমারির কারণে ২০২১ সালের জনগণনা স্থগিত রাখা হয়েছিল। আসন্ন এই বিশাল কর্মযজ্ঞের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার ইতিমধ্যেই ১১ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী বছর বিধানসভা নির্বাচন থাকায় উত্তরপ্রদেশ, পাঞ্জাব, গোয়া ও উত্তরাখণ্ডের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৪ জানুয়ারির মধ্যে জনগণনার কাজ চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, লাদাখ, জম্মু-কাশ্মীর, হিমাচল প্রদেশ এবং উত্তরাখণ্ডের তুষারাবৃত এলাকায় গত সেপ্টেম্বরেই এই কাজ করা হয়েছে। দেশের বাকি অংশে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে জনগণনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এই প্রক্রিয়ায় প্রতিটি পরিবারের জনসংখ্যা, আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতি, অভিবাসন এবং জন্মহার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা হবে। নতুন বিধির ফলে জনগণনার কাজে আরও বেশি কর্মীকে যুক্ত করা সম্ভব হবে। তবে হরিয়ানা সংক্রান্ত মামলার আইনি অবস্থান এবং সংশোধিত বিধির প্রয়োগ কী ভাবে এগোয়, সে দিকে নজর থাকবে।
previous post
