27 C
Kolkata
October 15, 2026
রাজ্য

বনগাঁয় সিপিএমের বইয়ের স্টলে অনুমতি, হাই কোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ রাজ্যের

নিজস্ব সংবাদদাতা, উত্তর ২৪ পরগনা— দুর্গাপুজোয় উত্তর ২৪ পরগনার বনগাঁয় বইয়ের স্টল বসাতে পারবে সিপিএম। দলকে প্রয়োজনীয় অনুমতি দেওয়ার জন্য বনগাঁর পুলিশ সুপার ও থানার আইসিকে নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার।

সিপিএমের অভিযোগ, বনগাঁয় একটি মণ্ডপের সামনে বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হচ্ছিল না। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় বইয়ের স্টল বসিয়ে এলেও এ বছর আচমকাই অনুমতি আটকে দেওয়া হয়েছে বলে আদালতে দাবি করে দলটি। তাদের আরও অভিযোগ, অন্য সংগঠনকে স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হলেও সিপিএমকে সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি।

বৃহস্পতিবার মামলার শুনানিতে বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য নির্দেশ দেন, সিপিএম যেখানে বইয়ের স্টল বসাতে চাইবে, তার ১০০ মিটারের মধ্যে স্টল বসানোর ব্যবস্থা করতে হবে। পুজোর দিনগুলিতে স্টল চালানোর সময় যাতে আইনশৃঙ্খলাজনিত কোনও সমস্যার মুখে পড়তে না হয়, তার জন্য পর্যাপ্ত নিরাপত্তার বন্দোবস্ত করতেও পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

আদালতের নির্দেশ মেনে বইয়ের স্টল বসানো হয়েছে কি না, তা জানিয়ে বনগাঁর পুলিশ সুপারকে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। আগামী ২৩ নভেম্বর মামলার পরবর্তী শুনানি হওয়ার কথা।

শুনানির সময় বইয়ের স্টলের অনুমতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি। তাঁর বক্তব্য, একটি পক্ষকে অনুমতি দেওয়া হবে, অথচ অন্য পক্ষকে দেওয়া হবে না—এমনটা ঠিক নয়। বিরোধী রাজনৈতিক দলের কণ্ঠস্বর এ ভাবে আটকে দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বইয়ের দোকান বসালে অসুবিধা কোথায়, সেই প্রশ্ন তুলে বিচারপতি বলেন, ‘সেখানে তো কোনও লটারির দোকান দেবেন না। বইয়ের দোকান দেবেন। অসুবিধার কী আছে?

মামলাটি বুধবার প্রথম বিচারপতি ভট্টাচার্যের এজলাসে ওঠে। সিপিএমের আইনজীবী আদালতে জানান, বহু বছর ধরেই ওই এলাকায় বইয়ের স্টল বসিয়ে আসছে দল। এ বছর অনুমতি না মিললেও অন্য সংগঠন, এমনকি হিন্দু জাগরণ মঞ্চকে বইয়ের স্টল বসানোর অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করে সিপিএম। অন্য সংগঠনগুলির কাছে প্রয়োজনীয় অনুমতি রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে তারা।

অন্যদিকে, রাজ্যের হয়ে আদালতে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট জেনারেল সুরজিৎনাথ মিত্র। তাঁর বক্তব্য ছিল, এই মামলা পুলিশি নিষ্ক্রিয়তা বা অতিসক্রিয়তা সংক্রান্ত নয়। তাই বিচারপতি ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটি শোনা যায় কি না, তা নিয়ে আপত্তি জানান তিনি। মামলাটি উপযুক্ত বেঞ্চে পাঠানোর আবেদনও জানায় রাজ্য।

তবে বৃহস্পতিবার সিঙ্গল বেঞ্চ সিপিএমের বইয়ের স্টল বসানোর পক্ষে নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধেই ডিভিশন বেঞ্চে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার। ফলে পুজোয় বনগাঁয় সিপিএমের বইয়ের স্টল ঘিরে আইনি টানাপড়েন আপাতত অব্যাহত থাকছে।

Related posts

Leave a Comment