27 C
Kolkata
October 15, 2026
টিভি-ও-সিনেমা

অমিতাভের চেয়ে ১ টাকা বেশি পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন নানা!

মুম্বই— প্রয়াত অভিনেতা নানা পটেকরকে ঘিরে এখনও নানা স্মৃতি ও গল্প উঠে আসছে। তাঁর অভিনয়, সংলাপ বলার নিজস্ব ভঙ্গি এবং ব্যক্তিত্বের ভক্ত ছিলেন বহু অভিনেতা। তাঁদেরই একজন কমলেশ সাওন্ত, যিনি ‘দৃশ্যম’ ছবিতে ইনস্পেক্টর গায়তোন্ডের চরিত্রে অভিনয় করে পরিচিতি পেয়েছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে নানা পটেকরকে স্মরণ করতে গিয়ে অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে তাঁর পারিশ্রমিক নিয়ে একটি গল্প শোনান কমলেশ। তাঁর দাবি, এক ছবিতে অমিতাভের চেয়ে মাত্র এক টাকা বেশি পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন নানা। তবে গল্পটির সত্যতা সম্পর্কে নিজেই নিশ্চিত নন কমলেশ।

নানার সঙ্গে একটি ছবিতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন কমলেশ। যদিও একই ছবিতে অভিনয় করলেও তাঁদের একসঙ্গে কোনও দৃশ্য ছিল না। সেই আক্ষেপের কথাও জানিয়েছেন তিনি। নানার কাজ করার ধরন কাছ থেকে দেখেছেন বলে জানান কমলেশ। পাশাপাশি, অভিনেতাকে নিয়ে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রচলিত নানা গল্পও শুনেছেন তিনি।

পারিশ্রমিকের প্রসঙ্গে কমলেশ বলেন, ‘এক বার শুনেছিলাম, অমিতাভ বচ্চনের সঙ্গে একটি ছবিতে কাজ করার জন্য তিনি নাকি বচ্চনসাহেবের চেয়ে এক টাকা বেশি পারিশ্রমিক চেয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, বচ্চনসাহেবের সঙ্গে কাজ করলে আমি এক টাকা বেশি নেব। তার পর নাকি একটি ছবির জন্য এক কোটি এক টাকা নিয়েছিলেন তিনি, যেখানে অমিতাভ বচ্চনের পারিশ্রমিক ছিল এক কোটি টাকা। তবে আমি যা শুনেছি, সেটাই বলছি। ঘটনাটি কতটা সত্যি, তা জানি না।’

কমলেশের বক্তব্য অনুযায়ী, এই গল্পের সত্যতা যাচাই করার মতো কোনও তথ্য তাঁর কাছে নেই। তাই ঘটনাটিকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে না দেখে অভিনেতাকে ঘিরে শোনা একটি কাহিনি হিসেবেই দেখছেন তিনি। তবে গল্পটি নানা পটেকরের আত্মবিশ্বাসী ব্যক্তিত্বের একটি দিক তুলে ধরে বলে মনে করছেন অনুরাগীদের একাংশ।

নানার অভিনয় প্রতিভা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কমলেশ বিশেষ ভাবে উল্লেখ করেছেন তাঁর সংলাপ বলার ক্ষমতার কথা। তাঁর মতে, হিন্দি ছবিতে সংলাপের গুরুত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে নানা পটেকরের বড় ভূমিকা ছিল। একটা সময় পর্যন্ত হিন্দি ছবিতে গান ও নাচই বেশি গুরুত্ব পেত। পরে শক্তিশালী সংলাপ এবং অভিনেতার অভিনয় দর্শকের কাছে বিশেষ আকর্ষণ হয়ে ওঠে। এই পরিবর্তনের অন্যতম মুখ ছিলেন নানা।

নানার সংলাপের জনপ্রিয়তা বোঝাতে গিয়ে মুম্বইয়ের গণেশ টকিজ় ও জয় হিন্দ টকিজ়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন কমলেশ। তাঁর কথায়, ওই প্রেক্ষাগৃহগুলিতে নানা পটেকরের সংলাপ শুনতে দর্শকের মধ্যে প্রবল উন্মাদনা দেখা যেত। অনেকে তাঁর ছবি বার বার দেখতে যেতেন। সংলাপের প্রতিটি মুহূর্ত দর্শকের মনে গেঁথে থাকত।

কমলেশ বলেন, ‘গণেশ টকিজ় ও জয় হিন্দ টকিজ়ে নানার সংলাপ নিয়ে দর্শকের উন্মাদনা আমি নিজের চোখে দেখেছি। মানুষ ওঁর ছবি বার বার দেখতে যেতেন। ওঁর সংলাপ শুনে পাগল হয়ে যেতেন দর্শক। এটাই ছিল নানার শক্তি।’

সিঙ্গল-স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহে সাধারণত দর্শকের চিৎকার, হাততালি ও উচ্ছ্বাসে ছবি দেখার পরিবেশ সরগরম থাকে। কিন্তু নানার সংলাপের সময় দর্শক নীরব হয়ে যেতেন বলে জানিয়েছেন কমলেশ। তাঁর মতে, দর্শকদের এ ভাবে নীরব করে দেওয়ার ক্ষমতা খুব কম অভিনেতারই রয়েছে। এই প্রসঙ্গে অমিতাভ বচ্চন ও নানা পটেকরের নাম করেছেন তিনি।

কমলেশের কথায়, ‘সাধারণত সিঙ্গল-স্ক্রিন প্রেক্ষাগৃহে দর্শক চুপ করে থাকবেন, এমন আশা করা যায় না। কিন্তু মাত্র দু’জন অভিনেতা দর্শককে চুপ করিয়ে দিতে পারতেন— এক জন বচ্চনসাহেব, অন্য জন নানা পটেকর। মানুষ ওঁদের ছবি বার বার দেখতেন। কোন সময়ে চুপ করে থাকলে সংলাপ শোনা যাবে, সেটাও তাঁরা জানতেন। কোন সংলাপের পরে কী আসবে, তা তাঁদের মুখস্থ ছিল। তাই সেই মুহূর্তের জন্য অপেক্ষা করতেন।’

নানার আকস্মিক প্রয়াণের খবর মেনে নেওয়া কঠিন বলেও জানিয়েছেন কমলেশ। তাঁর কথায়, ‘ওঁর কোনও অসুস্থতা ছিল না, কিন্তু হঠাৎ চলে গেলেন। এটা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।’ অভিনেতার প্রয়াণে শোকপ্রকাশের পাশাপাশি তাঁর অভিনয় ও ব্যক্তিত্বের নানা দিকও স্মরণ করছেন সহকর্মী এবং অনুরাগীরা।

নানা পটেকরকে ঘিরে পারিশ্রমিকের এই গল্পের সত্যতা অবশ্য নিশ্চিত নয়। তবে তাঁর অভিনয়ের প্রভাব, সংলাপ বলার দক্ষতা এবং দর্শকের সঙ্গে তাঁর গভীর সংযোগ যে সহকর্মীদের স্মৃতিতে বিশেষ জায়গা করে রয়েছে, কমলেশের বক্তব্যে তা স্পষ্ট।

Related posts

Leave a Comment