সংবাদ কলকাতা: ঘরের মাঠে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে কার্যত কোণঠাসা বাংলার অনূর্ধ্ব-২৩ ক্রিকেট দল। কর্নেল সি কে নাইডু ট্রফির চার দিনের ম্যাচে মুম্বইয়ের অনূর্ধ্ব-২৩ দল ৭ উইকেটে ৫৬৫ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করার পর দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলার সংগ্রহ ৪ উইকেটে মাত্র ৫৩ রান। ফলে ৫১২ রানে পিছিয়ে রয়েছে বাংলা। ফলোঅন এড়াতে এখনও ৩১৩ রান করতে হবে শশাঙ্ক সিংহের দলকে।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সল্টলেক ক্যাম্পাসের মাঠে মুম্বইয়ের ব্যাটিংয়ের দুই প্রধান স্তম্ভ ছিলেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্যাটার অঙ্গকৃশ রঘুবংশী এবং বাংলার তরুণ ক্রিকেটার অভিজ্ঞান কুন্ডু। তাঁদের দুরন্ত ব্যাটিংয়ের সামনে বাংলার বোলারদের কার্যত অসহায় দেখিয়েছে।
রঘুবংশী খেলেছেন ২০১ রানের দুরন্ত ইনিংস। ২৪৮ বলের ইনিংসে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছে ২৬টি চার ও ২টি ছয়। তাঁর এই দ্বিশতরানের ইনিংস মুম্বইকে বড় রানের ভিত গড়ে দেয়। অন্যদিকে, নজর কেড়েছেন বাঙালি উইকেটরক্ষক-ব্যাটার অভিজ্ঞান কুন্ডুও। তিনি ১৩৪ রান করে অপরাজিত থাকেন। তাঁর ইনিংসে রয়েছে ১৩টি চার ও ১টি ছয়। বাংলার কোনও বোলারই তাঁকে আউট করতে পারেননি।
অভিজ্ঞান অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী ভারতীয় দলের সদস্য। সেই বিশ্বকাপের সময় বৈভব সূর্যবংশীর রুমমেট ছিলেন তিনি। বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারীদের তালিকায় তৃতীয় স্থানে ছিলেন অভিজ্ঞান। এবার বাংলার বিরুদ্ধেও তাঁর ব্যাটিংয়ের দাপট অব্যাহত রইল। তাঁর অপরাজিত শতরানের ইনিংস মুম্বইকে সাড়ে ৫০০ রানের গণ্ডি পেরোতে বড় ভূমিকা নিয়েছে।
জবাবে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে বাংলা। শুভম সিংহ ও চন্দ্রহাস দাস কোনও রান না করেই আউট হন। যুবরাজ যাদব করেন মাত্র ১ রান। আদিত্য রায়ও বড় ইনিংস গড়তে ব্যর্থ; তাঁর সংগ্রহ ১৪ রান। দ্বিতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় শশাঙ্ক সিংহ ২১ এবং সুমিত নাগ ১৩ রান করে অপরাজিত রয়েছেন।
চার দিনের এই ম্যাচে বাংলার সামনে এখন কঠিন চ্যালেঞ্জ। হাতে রয়েছে মাত্র ছয়টি উইকেট, অথচ ফলোঅন এড়াতেই করতে হবে আরও ৩১৩ রান। রঘুবংশী ও অভিজ্ঞানের ব্যাটিংয়ে মুম্বই যে শক্ত ভিত তৈরি করেছে, তার মোকাবিলা করতে হলে পরের দিন বাংলার ব্যাটারদের বড় জুটি গড়তেই হবে।
previous post
next post
