33 C
Kolkata
October 6, 2026
দেশ

নির্বাচন কমিশনের দপ্তরের পথে বাধা, ব্যারিকেড টপকে আকাশবাণী ভবনে রাহুল-প্রিয়াঙ্কা

নয়াদিল্লি— নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়ে বিক্ষোভে বসে পড়লেন বিরোধী জোটের সাংসদরা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার সংসদ ভবন চত্বর থেকে নির্বাচন কমিশনের দপ্তর অভিমুখে মিছিল করেন ইন্ডিয়া জোটের সাংসদরা। তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে।

সংসদ ভবন থেকে মিছিল এগিয়ে পার্লামেন্ট স্ট্রিটে পৌঁছতেই পুলিশ তাঁদের আটকে দেয়। নীতি আয়োগের দপ্তর এবং আকাশবাণী ভবনের মধ্যবর্তী এলাকায় বিরোধী সাংসদদের পথ আটকে দেওয়া হয়। এরপর রাস্তায় বসে ধর্না শুরু করেন তাঁরা। বিক্ষোভকারীদের হাতে ছিল জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতীকী পোস্টার ও কাটআউট। তাঁরা ‘BJP hai CEC hai’ এবং ‘Vote chor, gaddi chhod’-এর মতো স্লোগান দেন।

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয় যখন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ কয়েকজন নেতা পুলিশের ব্যারিকেডের উপরে উঠে পড়েন। পরে পুলিশ তাঁদের আটক করে। কিছুক্ষণ আটক থাকার পর রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা আকাশবাণী ভবনের চত্বরে ঢোকার চেষ্টা করেন, যাতে সেখান থেকে নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তরের দিকে এগোনো যায়।

মিছিলের আগে থেকেই সংসদ ভবন এবং নির্বাচন কমিশনের সদর দপ্তর ঘিরে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিভিন্ন জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়। সাংসদরা সংসদের মকর দ্বার এলাকায় জড়ো হওয়ার পর সেখান থেকে নির্বচন সদনের দিকে যাত্রা শুরু করেন।

মিছিলে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা ছাড়াও তৃণমূলের অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব এবং সিপিআই(এম)-এর জন ব্রিট্টাস-সহ একাধিক বিরোধী নেতা অংশ নেন।

জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি তুলে রাহুল গান্ধী সামাজিক মাধ্যমে লেখেন, ‘Gyanesh it’s done bro. Time to resign’। বিরোধী সাংসদদের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। ভোটার তালিকায় নাম তোলার জন্য ব্যবহৃত ফর্ম ৬-এ পরিবর্তন সংক্রান্ত সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন তাঁরা।

কংগ্রেস সাংসদ ইমরান মাসুদ নির্বাচন কমিশনের প্রতি মানুষের আস্থার প্রসঙ্গ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, এতদিন নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে আস্থা ছিল, তা নষ্ট হয়েছে। তবে এই অভিযোগ বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই সামনে এসেছে।

বিরোধীদের এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির সংসদ ভবন ও নির্বাচন কমিশনের আশপাশে নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়। কমিশনের সদর দপ্তরে পৌঁছনোর আগেই পুলিশ মিছিল থামিয়ে দেওয়ায় ধর্নায় বসেন বিরোধী সাংসদরা। পরে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কার আটক হওয়ার ঘটনায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

Related posts

Leave a Comment