33 C
Kolkata
September 29, 2026
রাজ্য

বাংলাদেশি জঙ্গিদের স্লিপার সেলের খোঁজে রাজ্যে এনআইএ-র তল্লাশি

সংবাদ কলকাতা: বাংলাদেশভিত্তিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (Jamaat-ul-Mujahideen Bangladesh) এবং আনসারুল্লা বাংলা টিম (Ansarullah Bangla Team)-এর সঙ্গে যোগ থাকা সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গে একাধিক জায়গায় অভিযান শুরু করেছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (National Investigation Agency)। মঙ্গলবার ভোর থেকে রাজ্যের অন্তত পাঁচটি জায়গায় একসঙ্গে তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে তদন্ত-সূত্রের খবর।

দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুরের (Harirampur) বংশীহারী ব্লকের মুন্ডেহের গ্রামে মিজানুর রহমান (Mizanur Rahman) নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে এনআইএ-র একটি দল তল্লাশি চালাচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটের (Mangalakot) পালিশগ্রামেও অভিযান চলছে। সূত্রের খবর, সেখান থেকে এক জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ডায়মন্ড হারবারেও (Diamond Harbour) এনআইএ-র একটি দল পৌঁছেছে।

তদন্তকারীদের নজরে মূলত বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ এবং আনসারুল্লা বাংলা টিমের সঙ্গে যোগ থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই সংগঠনগুলির সঙ্গে যুক্ত স্লিপার সেলগুলি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় সক্রিয় রয়েছে কি না, থাকলে তাদের সঙ্গে কারা যুক্ত, কী ভাবে যোগাযোগ এবং অর্থের লেনদেন হচ্ছে—সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখতেই এ দিনের অভিযান।

চলতি মাসের শুরুতেই এই ধরনের জঙ্গি নেটওয়ার্কের তদন্তে এনআইএ-র কলকাতা শাখা দু’টি মামলার তদন্তভার গ্রহণ করেছে বলে সূত্রের খবর। ওই মামলাগুলিতে একাধিক বাংলাদেশি নাগরিকের নাম অভিযুক্তের তালিকায় রয়েছে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, তাঁরা বিভিন্ন সময়ে পশ্চিমবঙ্গে এসে ঘাঁটি তৈরি করেছিলেন এবং সংগঠনের কার্যকলাপ চালানোর চেষ্টা করেছিলেন।

গোয়েন্দাদের দাবি, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের জুলাইয়ের আন্দোলনের পর তৈরি হওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে জেল থেকে মুক্তি পাওয়া কয়েক জন জেএমবি সদস্য ফের সক্রিয় হয়েছেন। তাঁদের কয়েক জন পশ্চিমবঙ্গে থাকা পুরনো যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে স্লিপার সেল সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন কি না, সেই বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এ বছরের গোড়ায় অসমে জামাতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশের ছায়া সংগঠন হিসেবে পরিচিত ইমাম মাহমুদুর কাফিলা নামে একটি সংগঠনের একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই মামলার তদন্তে পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরাতেও ওই সংগঠনের যোগাযোগ থাকার তথ্য উঠে আসে বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।

ওই তদন্তেই শাদ রাডি নামে এক বাংলাদেশি নাগরিকের নাম উঠে আসে। তদন্তকারীদের অভিযোগ, বাংলাদেশ থেকে ভারতে এসে তিনি মুর্শিদাবাদে আত্মীয়দের সাহায্যে ঘাঁটি তৈরি করেছিলেন। এমনকি ভারতীয় পরিচয় তৈরির জন্য ভোটার তালিকাতেও নাম তোলার অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে।

এই মামলায় গুয়াহাটির বিশেষ এনআইএ আদালতে ১১ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেওয়ার কথা জানিয়েছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে কেন্দ্র করে জেএমবির একটি শাখা সংগঠনের কথিত সন্ত্রাসবাদী ষড়যন্ত্রের মামলায় এই চার্জশিট দেওয়া হয়েছে।

সেই মামলায় ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ থেকে পশ্চিমবঙ্গের আরও কয়েকটি জায়গায় স্লিপার সেলের হদিশ মিলেছে বলে তদন্ত-সূত্রের দাবি। সেই সূত্র ধরেই মঙ্গলবার একাধিক জেলায় একসঙ্গে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনের যোগাযোগ নিয়ে এর আগেও একাধিকবার তদন্ত হয়েছে। জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার সরকারি নথিতেও বাংলাদেশভিত্তিক আল কায়দা নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত সন্দেহে পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্যে তল্লাশি এবং নথি, বৈদ্যুতিন যন্ত্র ও অন্যান্য প্রমাণ উদ্ধারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এ দিনের অভিযানে এখনও পর্যন্ত কী কী নথি বা সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে, কত জনকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তল্লাশি শেষে তদন্তকারীরা কী তথ্য পেয়েছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। অভিযান শেষ হওয়ার পরই তদন্তের পরবর্তী গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।

Related posts

Leave a Comment